বিনোদন ডেস্ক : ‘গানচুরি’ এখন যেন সংগীতাঙ্গনের নিয়মিত একটি ঘটনা। হরহামেশায় একজনের সৃষ্টি চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে আরেকজনের নামে। তোয়াক্কা করা হচ্ছে না কপিরাইট আইনের। যেন দেখার কেউই নেই। এইভাবে চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে দেশের সংগীতাঙ্গন? আগামী প্রজন্ম কি শিখবে এই প্রজন্মের কাছ থেকে? বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এখনই। এপর্যন্ত যতজনের বিরুদ্ধে এই গান চুরির অভিযোগ উঠেছে তাদের একটি তালিকা তুলে ধরা হল পাঠকদের জন্য।
সম্প্রতি ‘মেন্টাল’ ছবির বিরুদ্ধে গান চুরির অভিযোগ এনেছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এবং সংগীতপরিচালক ইমরান। গত ২০ জানুয়ারি থেকে প্রকাশিত হয় ইমরানের ‘বলতে বলতে চলতে চলতে’ শিরোনামে একটি গানের মিউজিক ভিডিও। গানের কথা লিখেছেন শফিক তুহিন। এদিকে গত ২২ জানুয়ারি রাতে শামীম আহমেদ রনি পরিচালিত ‘মেন্টাল’ ছবির ‘বলতে বাকি কত কি’ শিরোনামে’ আরেকটি গান প্রকাশিত হয়। গানটির সুর এবং সংগীত হুবহুভাবে ইমরানের ‘বলতে বলতে চলতে চলতে’ গানের সাথে মিলে যায়। এরপরই তাদের বিরুদ্ধে গান চুরির অভিযোগ আনেন ইমরান। ইমরানের সাথে এই গানের গীতিকার অভির ফেসবুক এবং ইমেইলের কথোপকথন দেখে বোঝা গিয়েছে গানটি ইমরানের সৃষ্টি।
গতবছরের ডিসেম্বর মাসে কবি ও নির্মাতা কামরুজ্জামান কামু কবির বকুল এবং শওকত আলী ইমনের বিরুদ্ধে গান চুরির অভিযোগ আনেন। অভিযোগে তিনি বলেন, শওকত আলী ইমন হইতে সাবধান! ইহা একটি নিম্নমানের চোর। অরূপ রাহী একদিন স্টেডিয়াম থেকে ছায়াছবির গানের একটা ডিভিডি কিনে আনলেন। শুনে আমি থ। অনেকদিন আগে আমি শওকতকে কয়েকটা গান দিছিলাম সালমার অ্যালবাম-এর জন্যে। একটা গান ছিল, ‘সুতা পরানে বান্ধিয়া…’। ডিভিডিতে দেখলাম, সেই গানের মুখ ঠিক রাইখা ভিতরে ফুংফাং কথা দিয়া একই সুরে একটা গান বানানো হইছে। গীতিকার কবির বকুল, সুরকার নাকি শওকত আলী ইমন! এরে এখন কী করা উচিৎ? এর প্রেক্ষিতে ইমন বলেন, প্রায় ৮ বছর আগে কামুর বাসায় বসে আমি গানটির সুর করেছিলাম। মূলত সালমার জন্যে গানটির সুর করা হয়েছিল। তখন প্রযোজকও কামুকে তার পাওনা বুঝিয়ে দিয়েছেন। তারপর সেই গানটি একটি ছবিতে ব্যবহার করা হয়। চলচ্চিত্রে এভাবে গান ব্যবহারে রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। এ ক্ষেত্রে আমার দোষ কোথায়। আমি তো শুধু সুর করেছি। কেন গানটিতে গীতিকার হিসেবে কামুর নাম ব্যবহার করা হলো না, তা পরিচালক কিংবা প্রযোজক ভালো বলতে পারবেন।
গীতিকার কবির বকুলের বিরুদ্ধে এর আগে গীতিকার লতিফুল ইসলাম শিবলী, জাহিদ আহমেদ সহ বেশ কয়েকজন গান চুরির অভিযোগ এনেছিলেন। শুধু তাই নয় এ সময়কার অনেক তরুণ গীতিকারদেরও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।
গতবছরের মাঝামাঝি জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও সংগীতপরিচালক তৌসিফের বিরুদ্ধে গান চুরির অভিযোগ আনেন গীতিকার ফয়সাল রাব্বিকিন। গেল রোজার ঈদে প্রকাশ পায় তৌসিফের নতুন একক ‘আবেগ’। এই অ্যালবামের ‘মন যমুনা’ নামে একটি গান ছিল। গানটি ফয়সাল রাব্বিকিন তার নিজের লেখা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, গানটির মুখ ঠিক রেখে অন্তরা বদলে ফেলা হয় অ্যালবামে। গানটির গীতিকার হিসেবে অন্য একজনের নামও দেয়া হয়। মন যমুনা গানটি যখন গ্রামীণ ফোনে প্রকাশ পায় তখন আমাকে বেশ কয়েকজন ফোন করে প্রসংশা করেন। ঈদের পর পরই অনেকে আমাকে ফোন করে জানান যে অ্যালবামে ‘মন যমুনা’ গানটির গীতিকারের নাম বদলে ফেলা হয়েছে। কিন্তু তৌসিফ কার অনুমতি নিয়ে এই ধরনের প্রতারণামূলক কাজ করলেন সেটা বোধগম্য নয়। তৌসিফের এমন সরাসরি প্রতারণার শাস্তি হওয়া উচিৎ। এ প্রসঙ্গে তৌসিফ বলেন, গানটি আমি সুরের উপর লেখার জন্য ফয়সাল রাব্বিকিনকে দেই। কিন্তু এর মুখ আমিই লিখে দিয়েছিলাম। আসলে আমি যখন কাউকে সুরের উপর গান লেখায় তখন মুখটা আমিই লিখে দেই। এক্ষেত্রেও এমনটিই হয়েছিল। পরে কোন একটি কারণে রাব্বিকিনের লেখা অন্তরার অংশটুকু বাদ দিয়ে আমি অন্য কাউকে দিয়ে গানটি লেখায়। এখন যদি সে এমন অভিযোগ আনে তবে সেটি দুঃখজনক।
চলচিত্র নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গান চুরির অভিযোগ এনেছিলেন সংগীতপরিচালক শওকত আলী ইমন। তার অনুমতি না নিয়েই ৪টি গান দেবাশীষ বিশ্বাস তার ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’ ছবিতে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেন ইমন। এর জন্য তিনি উকিল নোটিশও পাঠান দেবাশীষ বিশ্বাসকে। দেবাশীষ বিশ্বাসও উকিল নোটিশ গ্রহণ করে আইনি ব্যবস্থা নেন।
এছাড়া ভারতীয় বাংলা টিভি চ্যানেল জি বাংলার বিরুদ্ধে গান চুরির অভিযোগ আনেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। জি-বাংলার একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘কেয়া পাতার নৌকো’ তে তার অনুমুতি না নিয়ে তার ‘লীলাবালী… লীলাবালী’ গানটি ব্যবহার করা হয়। অভিযোগে শাওন বলেন, আমার গান ব্যবহার করা হচ্ছে অথচ আমিই জানি না। গানটি ব্যবহারের আগে অবশ্যই আমাকে জানানো উচিত ছিল। আমি নিশ্চয়ই এজন্য তাদের কাছে কোনো রয়্যালিটি সন্মানী দাবি করতাম না। শুধু সৌজন্যতা দেখানোটাই ছিল যথেষ্ট। এইটুকু সৌজন্যতা কি আমরা বাংলাদেশের শিল্পীরা পশ্চিমবঙ্গের কাছে আশা করতে পারি না?

