নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রশাসনকে উৎকোচ দিয়ে বাণিজ্যমেলায় ঢুকছে বহিরাগতরা। হকার, ভিক্ষুক, পকেটমারের উৎপাতে অস্থির দর্শনার্থীরা। অথচ সবক’টি ফটকে কঠোর নিরাপত্তা রয়েছে।
সরেজমিনে শুক্রবার মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি ছুটির দিন থাকায় অন্যান্য দিনের চেয়ে মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল বেশি। পাশাপাশি বহিরাগত হকার, ভিক্ষুকদের অনাগোনাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
মেলায় বিদেশি প্যাভিলিয়নের পাশে রাজু নামের একজন হকার নারীদের ব্যবহৃত বাহারি ডিজাইনের জিনিস বিক্রি করছে। এর মধ্যে রয়েছে আংটি, ব্রেসলেট, নেকলেস, চুরি ইত্যাদি।
এখানে কীভাবে ঢুকলেন জানতে চাইলে রাজু বলেন, মেলায় ব্যবসা করতে হলে কয়েক জায়গায় টাকা দিতে হয়। এরমধ্যে পুলিশকে নিয়মিত না দিলে আটক করে সব মালামাল নিয়ে যায়। আর যখন বড় স্যারেরা আসে তখন একটু সরে থাকতে হয়। স্যারেরা আসার আগেই তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হয়। জানিয়ে দেয়ার পরও যারা দোকান বন্ধ করে না তাদেরকে ধরে নিয়ে যায়। তবে ধরে নিয়ে গেলেও সমস্যা হয় না, কারণ রাতে ঠিকই ছেড়ে দেয়।
মেলা সূত্রে জানা গেছে, মেলায় হকারদের প্রবেশ অবৈধ হলেও প্রশাসন তাদের কাছে উৎকোচ নিয়ে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। তাছাড়া পুলিশ তাদের নিয়মিত মশোহারা পায়। যারা নিয়মিত মশোহারা দেয় না তাদেরকে আটক করে মালামালা নষ্ট করে দেয়া হয়। এছাড়া অনেককে সারা দিন আটক রেখে রাতে ছেড়ে দেয়া হয়।
মাশোহারা নিয়ে হকারদের ব্যবসা করতে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাণিজ্য মেলার দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘মাশোহারা নেয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। যদি এমন অভিযোগ আসে তাহলে এটি ভিত্তিহীন। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিদিন মেলা প্রাঙ্গণে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। কোনো হকার পেলে সাথে সাথে মালামালসহ আটক করা হয়।’
মেলায় আগত দর্শনাথীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেলায় ভিক্ষুক ও হকাররা পিছু লেগে থাকে। চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
মেলায় অংশগ্রহণকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, মেলায় আমরা অনেক টাকা দিয়ে স্টল বরাদ্দ পেয়েছি। অথচ এখানে কয়েক টাকার বিনিময়ে হকারদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে। এতে ব্যবসার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সেই সঙ্গে যারা স্টল বরাদ্দ নিয়েছে তাদের লোকসান হচ্ছে।
পাকিস্তান প্যাভিলিয়নে কর্মরত আলী ইহসান জানান, মেলায় হকারদের প্রবেশ করতে দিয়ে পুরো মেলার সৌন্দর্যকে নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক মহলে সুনাম নষ্ট হবে বলে মনে করেন তিনি।
এ ব্যাপারে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) উপপরিচালক (অর্থ) ও মেলা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রতিদিন মেলায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টহল দিচ্ছে। মেলা প্রাঙ্গনে বহিরাগতদের পেলে তাদের আটক করা হয়।’
ঘুষ নিয়ে মেলায় হকারদের প্রবেশ করতে দেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হতে পারে, তবে বিষয়টি আমাদের জানা নেই।’

