আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরাক ও সিরিয়ার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভূমি দখল করে খিলাফত প্রতিষ্ঠাকারী সশস্ত্র সংগঠন আইসিস, পরিবর্তিত নাম ইসলামিক স্টেট সম্প্রতি জাপানের দুই সাংবাদিককে আটক করে সামাজিক যোগাযোগভিত্তিক অনলাইন ভিডিও ফোরাম ইউটিউবে একটি ভিডিও প্রকাশ করে প্রায় সাড়ে ১৫০০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ইসলামিক স্টেট-এর দাবি অনুসারে মুক্তিপণ পৌঁছানোর সময়সীমা ছিল ৭২ ঘন্টা এবং ঐ সময়ের মধ্যে জাপান সরকার মুক্তিপণ প্রদানের পথে এগোয়নি।
দেশটি জানাচ্ছে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তারা সাংবাদিকদের ‘উদ্ধার তৎপরতা’ চালু রেখেছে। এদিকে জাপানি সাংবাদিকদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনও জানা যায়নি। জাপান প্রশাসন এই অপহরণকে সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ইসলামিক স্টেটের ওপর সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্যে দেশটির আইনকানুনে প্রয়োজনীয় রদবদল করার ঘোষণা দিয়েছেন। শেষখবর পাওয়া পর্যন্ত তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। জাপারেন সংবিধান অনুসারে দেশটির সেনাবাহিনী শুধুমাত্র শান্তিরক্ষায় ও সাধারণের সহায়তায় বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার যোগ্যতা রাখে।
জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার ইউটিউবে দুই জাপানি সাংবাদিককে আটক রেখে আইএস-এর মুক্তিপণ দাবির ভিডিওটি প্রকাশিত হয়। সেখানে দেখা যায় মুখ ঢেকে রাখা হন্তারক তাদের গলার কাছে ছুরি চেপে ধরে রেখেছে। আটক জাপানি সাংবাদিক দুজনের নাম কেনশি গোতো এবং হারুনা সুকাওয়া। জাপান সরকারের প্রধান মুখপাত্র যোশিহিদে সুগা জানান, তারা বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীসহ আন্তর্জাতিক শক্তির কাছে সহায়তা চেয়েছেন। আটক দুজনের একজন কেনশির মাতা জুনকো ইশিদো ক্রন্দনরত অবস্থায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার ছেলে ইসলামে বিশ্বাসীদের শত্রু নয়, আমি আমার নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও তার মুক্তি চাই।’

