স্পোর্টস ডেস্ক : প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে সকল প্রকার খেলাধুলা বন্ধ হয়ে আছে। চলতি বছরের শুরুতে টেনিসে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ায়। এরপর থেকে আর কোনো বড় টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ায়নি। এমনকি স্থগিত হয়ে আছে রোলা গাঁরো ও উইম্বলডন।
এমন অবস্থায় র্যাংকিংয়ে নিচের সারির খেলোয়াড়রা আছে সবচেয়ে বেশি বিপাকে। খেলা না থাকায় অর্থ আয়ের কোনো সুযোগ নেই তাদের। খেলোয়াড়দের এমন দুঃসময়ে এগিয়ে এসেছেন টেনিসের ৩ মহারথী। নোভাক জোকোভিচ, রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদাল। তাঁরা পরিকল্পনা করছেন র্যাংকিংয়ে নিচে থাকা খেলোয়াড়দের পাশে থাকার। তাদের সঙ্গে একমত হয়েছে এটিপিও।
সাধারণত ওয়ার্ল্ড টেনিস ফেডারেশন থেকে র্যাংকিংয়ে ২৫০ এর পরে থাকা খেলোয়াড়রা তেমন কোনো সহায়তা পায়না। আর যাদের র্যাংকিং ৭০০ এরও পরে তারা স্বাধীন টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে খেলে থাকে। এরা কারো থেকে কোনো সুযোগ সুবিধা পায় না। এমনকি স্পন্সরও থাকে না তাদের। করোনার কারণে সংগ্রাম করতে হচ্ছে সবার।
তাদের কথা ভেবে র্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা জোকোভিচ একটা প্রস্তাব করেন ফেদেরার-নাদালকে। জোকোভিচ তাঁর এক বন্ধুকে ইন্সটাগ্রাম লাইভে এসে বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে রজার ও রাফার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আমরা টেনিসের ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। কী হতে পারে, এখনকার পরিস্থিতি সামনে কী প্রভাব ফেলতে পারে, আমরা কীভাবে টেনিসে অবদান রাখতে পারি, বিশেষ করে নিচের সারির খেলোয়াড়দের জন্য যারা কিনা সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করছে।’
জোকোভিচ আরও যোগ করেন, ‘এদের মধ্যে অনেকে ফেডারেশনের কোনো সহায়তা পায়না, নেই কোনো স্পন্সর। তারা নিজেরা নিজেদের অর্থ খরচ করে টেনিস খেলে থাকে। খেলা না থাকলে এরা বেশ অসুবিধায় পড়ে। এই মুহূর্তে তাদের অনেকে টেনিস ছেড়ে দেওয়ারও পরিকল্পনা করছে। তাদের জন্য আমরা একটা ফান্ড গঠনের চেষ্টা করছি। যেখান থেকে তাদের সহায়তা করা হবে।’
এককালীন অনুদান নাকি অন্য কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হবে এমন প্রশ্নে জোকোভিচ বলেন, ‘আমরা পরিকল্পনা করছি প্রতি বছরের শেষ টুর্নামেন্টের প্রাইজ মানির কিছু অংশ তাদের জন্য ছেড়ে দিবো। এই বছর যদি আর কোনো টুর্নামেন্ট না হয় সেক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রাইজ মানি থেকে কিছু অংশ ছেড়ে দিবো।’
জোকোভিচ জানিয়েছে র্যাংকিংয়ে প্রথম ১০০জন খেলোয়াড় তাদের সঙ্গে যোগ দিবেন। সবার জন্য একটা স্কেল নির্ধারণ করেছে তারা, ‘আমরা একটা স্ক্লেল নির্ধারণ করেছি। সেরা পাঁচজন তারকা ন্যুনতম ৩০,০০০ ও প্রথম ১০০ জনের বাকীরা ৫০০০ ডলার করে ছেড়ে দিবে। তবে কেউ চাইলে তার চেয়ে বেশি দিতে পারবে। আর আমরা এই ফান্ডের টাকা এটিপির মাধ্যমে খেলোয়াড়দের পৌঁছে দিবো।’
এই নিয়ে এটিপির প্রধান আন্দ্রে গাদেঞ্জি ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা এখন খেলতে পারছে না, অর্থ আয় করতে পারছে না। ফলে বিপাকে পড়েছে তারা। আমরা তাদের সাহায্য করবো। আমি খুব অভিভুত হয়েছি, বড় তারকা স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছে সাহায্য দিতে।’

