নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) কারচুপির সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
সোমবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ দাবি করেন তিনি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত এ বৈঠক হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইভিএমে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সুতরাং ইভিএম থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। ইভিএমে আগে প্রোগ্রামিং করার সুযোগ নেই। সকাল ৮টার আগে কেউ মেশিন খুলতে পারবে না। আবার ৫টার পরে ভোট দেয়া যাবে না। ইভিএম অনলাইন সিস্টেম না, অফলাইন সিস্টেম। ফলে কোনো সমস্যা হবে না।
বিএনপির সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা তাদের বুঝিয়ে বলেছি, যার ভোট সে দিতে পারবে। ভোটে কোনো অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই। ব্যালট বাক্স নিয়ে যাওয়া, পুড়িয়ে দেয়াসহ নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল, এসব অনিয়ম প্রতিরোধে আমরা ইভিএম ব্যবহার করতে পারি।
বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইভিএমে নীরবে কারচুপি হওয়ার সুযোগ নেই। সংসদ নির্বাচন, সিটি নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচন করেছি। সেখানে ভোটারদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিল না। প্রার্থীদেরও তেমন অভিযোগ ছিল না।
সিইসি বলেন, পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করে কঠোরভাবে বলে দেব, যাতে প্রার্থীদের হয়রানি না করে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে বলেছি, অয়োজনীয় গ্রেপ্তার করা যাবে না। কিন্তু ক্রিমিনাল অফেন্স করলে গ্রেপ্তার করা যাবে না, তা নয়। পুলিশের সঙ্গে আনঅফিসিয়ালি কথা বলেছি, তারা অপ্রয়োজনীয় গ্রেপ্তার করবে না। তাদের বলেছি, হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করা যাবে না। নির্বাচনের বিধি মেনেই নির্বাচন পরিচালনা করা হবে। আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচন করব।
বিভিন্ন স্থানে বিধি ভেঙে প্রচারণার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রচারণার বিষয়ে শুনেছি। তবে কেউ অভিযোগ করেনি। পত্রিকায় যেসব অভিযোগ আসছে, রিটার্নিং কর্মকর্তারা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণের প্রার্থী ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার ও যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা, কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানম। এছাড়া, দুই সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাতেন ও মো. আবুল কাসেম বৈঠকে অংশ নেন।

