নিজস্ব প্রতিবেদক : সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরা অব্যাহত আছে। রোববার রাতে আটজন নারীসহ দেশে ফিরেছেন আরো ১৩৭ বাংলাদেশি।
রোববার রাত ১১টা ২০ মিনিটে ও রাত দেড়টায় সৌদি এয়ারলাইন্সের বিমানযোগে দেশে ফেরেন ১৩৭ জন। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে ৪৫৪ জন বাংলাদেশি ফিরলেন।
যদিও একদিন আগেই প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছিলেন, নতুন বছরে কেউ সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরছে না।
বরাবরের মতো গতকালও দেশে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মাঝে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে খাবার পানি সরবরাহ এবং নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়।
দেশে ফেরা টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার সাদ্দাম হোসেন জানান, মাত্র এক বছর আগে এসি টেকনিশিয়ানের কাজ করতে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা খরচ করে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। সেখানে চার মাস কাজ করলেও সঠিক বেতন পাননি।
তিনি জানান, কাজ থেকে রুমে ফেরার পথে পুলিশ ধরে আকামা থাকা সত্বেও দেশে ফেরত পাঠানো হয় সাদ্দামকে।
সুনামগঞ্জের আবুল কালাম জানান, দুই বছর আগে প্রিন্টিংয়ের কাজ করতে ৫ লাখ চাকা খরচ করে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। কিন্তু ভাগ্যের চাকা না ঘুরতেই দেশে ফিরে আসতে হলো তাকে।
একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে ফিরেছেন চট্টগ্রামের সগির হোসেন, সিরাজুল কবির; সিলেটের ফুরকান, শাহ আলম, রফিক ও নোয়াখালীর শামসুদ্দিন।
দেশে ফেরা অনেক যুবকের অভিযোগ, আকামা তৈরির জন্য কফিলকে (নিয়োগকর্তা) টাকা দিলেও কফিল আকামা তৈরি করে দেয়নি। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর কফিলের সাথে যোগাযোগ করলেও গ্রেপ্তারকৃত কর্মীর দায়-দায়িত্ব নিচ্ছে না। বরং কফিল প্রশাসনকে বলেন, ভিসা বাতিল করে দেশে পাঠিয়ে দিতে।
প্রসঙ্গত, গত বছর ২০১৯ সালে সৌদি আরব থেকে ২৪ হাজার ২৮১ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়।

