নিজস্ব প্রতিবেদক : তীব্র শীত উপেক্ষা করে মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত ১২টা ১ মিনিটে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন চার্চে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন শুরু হয়েছে।
শুভ বড়দিন উপলক্ষে ঝলমল করছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি গির্জা। ফুল আর বাহারি বেলুনে সেজে উঠেছে গির্জাগুলো। দেয়ালে ঝুলছে লাল-সবুজ রঙের নকশা করা লাইটের ঝালর। ভেতরে-বাইরে সর্বত্র আলোকসজ্জা।
পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার, আরমানিটোলা, জনসন রোড, সায়েদাবাদ, তেজগাঁও, কাকরাইল, মিরপুর, কাফরুল, মোহাম্মদপুর, গুলশান, বনানী, ইস্কাটনসহ রাজধানীর নানা জায়গায় রয়েছে ছোট-বড় অনেক গির্জা। এসব গির্জাতেই লেগেছে উৎসবের রঙ।
কাকরাইল গির্জা প্রাঙ্গণে রয়েছে বেশ কিছু স্থাপনা। প্রতিটি স্থাপনা সাজানো হয়েছে শৈল্পিকভাবে। ফটক দিয়ে একটু ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে শন ও বেত দিয়ে সাজানো প্রতীকী গোয়ালঘর। আশপাশেই রয়েছে ক্রিসমাস ট্রি। গির্জা প্রাঙ্গণ ঝকঝকে, তকতকে। এতে বিচ্ছুরিত হচ্ছে আলোর রোশনাই। রাত থেকেই চলছে প্রার্থনা।
খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিস্ট ২৫ ডিসেম্বর বেথেলহেম নগরীতে অলৌকিকভাবে জন্মগ্রহণ করেন। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের বিশ্বাস যিশু খ্রিস্ট মানুষের রূপ ধরে পৃথিবীতে এসেছিলেন সব পাপ থেকে মুক্তি দিতে আর মানবিক বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করতে। তার এই আগমনকে স্মরণ করে খ্রিস্টানরা শ্রদ্ধা ভালোবাসায় বিশ্বব্যাপী জাকজমকপূর্ণভাবে দিনটি উদযাপন করেন। তবে বাঙালিদের কাছে এই দিনটির পরিচয় বড়দিন হিসেবে।
বুধবার সকালে তেজগাঁও ক্যাথলিক চার্চে অনুষ্ঠিত হয় সবচেয়ে বড় প্রার্থনা অনুষ্ঠান।
প্রার্থনায় চার্চের ফাদার বলেন, ‘আমরা এসেছি প্রভুকে দেখতে। এই খ্রিস্ট জাগের মধ্যে দিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করতে। এসো, আমাদের অযোগ্যতা স্বীকার করি। অযোগ্যতা আছে আমাদের দেশ, পৃথিবীর, সমাজের। অযোগ্যতা আছে ব্যক্তি জীবনে, আছে পারিবারিক জীবনে। প্রভু যিশুকে আমাদের ঘরে স্থান দিয়ে সবকিছু এই গোসালার ন্যায় অনুভব করে প্রভু পরমেশ্বরের ভালোবাসা গ্রহণ করি। তারই আগমনে হবে সব পাপের ক্ষমা।’ এরপর সবাই মিলে পাপ মোচনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
প্রার্থনা শেষে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে যীশুর বিভিন্ন দিক নির্দেশনা তুলে ধরেন।

