নিজস্ব প্রতিবেদক : র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, শুধু মাদক ব্যবসায়ী নয়, যারা এর পেছনে হুন্ডির মাধ্যমে এর অর্থায়ন করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছি।
মঙ্গলবার কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে র্যাব-৮ আয়োজিত ‘বীচ ম্যারাথন’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিজি এ কথা বলেন।
বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের ধরে ক্ষান্ত নই। যারা অর্থায়ন করে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা এপার-ওপার করে তাদের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিছু হুন্ডি ব্যবসায়ী বিদেশে বসে এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদেরকে আমরা চিহ্নিত করেছি। ওই সমস্ত দেশ থেকে তাদের ধরার চেষ্টা করছি আমরা। বাংলাদেশেও কোনসময় পা দিলে তাদের নিষ্কৃতি নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কক্সবাজারে একটা শক্ত অবস্থান নিয়েছি। কক্সবাজার দিয়ে মাদক আসলেই কঠিন ব্যাপার। এখন মিজোরাম দিয়ে আসাম-মেঘালয় হয়ে সিলেট দিয়ে মাদক প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছে। ওখানেও ব্যবসায়ীদের আমরা গ্রেপ্তার করেছি। এরা যতই অপচেষ্টা করুক আমাদের সক্ষমতা দিয়ে আমরা তাদেরকে মোকাবেলা করতে সক্ষম হব।’
মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধার করেই মাদককে দমন করা যাবে না উল্লেখ করে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘যতদিন সমাজে ডিমান্ড থাকবে ততদিন পর্যন্ত কোনো না কোনোভাবে সাপ্লাই আসবেই। সাপ্লাই বন্ধ করতে হলে ডিমান্ড বন্ধ করতে হবে। ডিমান্ড বন্ধ হলে অটোমেটিক্যালি সাপ্লাই কমে আসবে। আর পাশাপাশি যদি ল’ এনফোর্সমেন্টের অভিযান অব্যাহত থাকে তাহলে আমি মনে করি মাদক নির্মূল হতে বাধ্য।’
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের একটা ছোট অংশ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এক শ্রেণির রোহিঙ্গা এতো ডেসপারেট যে, তারা জিরো লাইন অতিক্রম করে, মাইন উপেক্ষা করে মাদক নিয়ে আসে।’
কক্সবাজারে র্যাব-১৫ প্রতিষ্ঠার পর এক বছরে ৪০ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ও বন্দুকযুদ্ধে ৫ থেকে ৬ জন নিহত হয়েছেন বলেও জানান বেনজীর। তবে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বহুমুখী নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি করছে বলে মনে করেন তিনি।

