আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারত শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা অচলাবস্থার কারণে ২৪০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। বুধবার কাশ্মীর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সভাপতি শেখ আশিক আহমেদ বলেন, ‘গত ১২০ দিন ধরে আমরা দেখছি কীভাবে প্রতিটি খাত রক্তাক্ত হচ্ছে..আমাদের আশঙ্কা এই সংকট ২০২০ সালে আরো চরম আকার নিবে’।
গত আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করে কেন্দ্রীয় সরকার। একে ভেঙ্গে দুটি রাজ্য সৃষ্টির পর সরাসরি কেন্দ্রের শাসনে নিয়ে আসা হয়। কাশ্মীরিদের বিক্ষোভ ঠেকাতে কারফিউ জারি করা হয়। এছাড়া আটক করা হয় চার শতাধিক রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে। কাশ্মীরের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখায় এই অঞ্চলের পর্যটনসহ ব্যবসাখাতে রীতিমতো ধস নামে। সম্প্রতি কাশ্মীরের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এখনো কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
কাশ্মীর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি ও ই-কমার্সসহ ইন্টানেটের ওপর নির্ভরশীল খাতগুলো আগস্টের অচলাবস্থার পর থেকে ধ্বংস হয়ে গেছে।
শেখ আশিক আহমেদ বলেন, ‘উন্নয়নশীল কাশ্মীরের দোহাই দিয়ে ভারত সরকার তাদের সিদ্ধান্ত মূল্যায়ণ করেছে। সরকারের সিদ্ধান্তে স্থানীয়রা ক্ষতির মুখে পড়েছে… কেন্দ্রীয় সরকারের অবশ্যই আমাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিৎ’।
৮৫ বছরের পুরোনো চেম্বার অব কমার্সের এক হাজার ৫০০ এর বেশি সদস্য রয়েছে। টেলিফোন সেবা বন্ধ থাকাঅয় রাজ্যের ব্যবসা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য সংগঠনটি ব্যবসায়ীদের দ্বারে দ্বারে কর্মীদের পাঠিয়েছে।
দশকের পর দশক ধরে কাশ্মীরের ব্যবসার প্রধান খাত ছিল পর্যটন। সেই খাতে গত আগস্টের পর বড় ধরনের ধস নেমেছে।
প্রধান শহর শ্রীনগরের বাসিন্দা ইয়াসিন তুমানের পরিবার এক শতাব্দিরও বেশি সময় ধরে সেখানে লেকের পাড়ে ভাসমান বাড়ির মালিক।
তুমান জানান, গত বছর তার বাড়িতে আড়াই হাজারের বেশি পর্যটক এসেছিল থাকার জন্য। এই বছর আগস্টের অচলাবস্থার আগ পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল এক হাজার ১০০।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু গত ১২০ দিনে মাত্র আট জন পর্যটক এসেছিলেন আমার ভাসমান বাড়িতে থাকার জন্য। যেভাবে আমাদের ব্যবসায় ধস নেমেছে তা বেদনাদায়ক’।

