নিউজ ডেস্ক : আগামী বছর ১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। এ দিনটি তাৎপর্যপূর্ণভাবে পালন করতে ব্যাপক কর্মসূচি নিতে যাচ্ছে সরকার। দেশব্যাপী কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৯৫টি উপজেলায় একযোগে ক্যাম্পেইন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
দিনটিকে সামনে রেখে বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে ‘অপ্রিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শ্লোগানে একতাবদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উত্তরণ প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) কর্তৃক চলতি বছর ১২-১৬ মার্চ ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় সব মানদণ্ড পূরণ করে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য প্রথমবারের মত সুপারিশ লাভ করে- যা স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের উন্নয়নে একটি বড় অর্জন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ও ভিশন ২০২১ এর সফল রূপায়ন।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ আর্থসামাজিক বিভিন্ন খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে এবং বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে সমাদৃত হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে পরিচালিত অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে উন্নয়ন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের সুফল রূপায়ন। এই উত্তরণ প্রক্রিয়ায়কে ধরে রাখা এবং একটি স্বনির্ভর দেশ গড়ে তোলার জন্য দেশের জনগণের অধিকতর অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এরই প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ কর্তৃক জিওবি এবং জাপান সরকারের ডিআরজিএ-সিএফ অর্থায়নে ‘সাপোর্ট টু সাসটেইনাবল গ্রাজুয়েশন’ প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
তৃণমূল পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদযাপনে যথাযথ আবহ সৃষ্টির লক্ষ্যে আগামী ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে সামনে রেখে দেশব্যাপী আপামর জনসাধারণের বিশেষ করে যুবসমাজের উন্নয়ন ও উত্তরণ বিষয়ে জনগণকে অধিকতর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
জাতি হিসেবে আমাদের জনগণের অভূতপূর্ব সাফল্য এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে আমাদের অগ্রগতি তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় এবং সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে একযোগে এই জনসচেতনামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শিল্পী কলাকুশলী ছাত্র ও তরুণ যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে বিশাল র্যালিসহ দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। র্যালিতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে টি-শার্ট ব্যানার, ফেস্টুন বিতরণ করা হবে। উক্ত জনসেচতনামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী আতশবাজি পোড়ানো ও ভিডিওচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করাহবে। এছাড়া দেশ বিদেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। আনন্দ অনুষ্ঠানে একযোগে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রচার করা হবে। এতে সব বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষ বিশেষত তরুণ ও যুবসমাজকে ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শ্লোগানে একতাবদ্ধ করা হবে।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়র অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে এক সার সংক্ষেপে বলা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজনে অনতিবিলম্বে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করা আবশ্যক। এ কারণে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরবরাহকরী প্রতিষ্ঠান ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সেবা ক্রয় করা দরকার। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন,২০০৬ এর ৬৮ ধারা মতে সরকার রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে জনস্বার্থে সরকার কর্তৃক গঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশক্রমে, ধারা-৩২ এ বর্ণিত সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি বা অন্যকোন পদ্ধতি অনুসরণ করে সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। এ অবস্থায় আগামী বছর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সুষ্ঠু সমন্বয় রেখে দেশব্যাপী অভিন্নভাবে অনুষ্ঠান উদযাপনের বিষয়টি একাধিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দুরূহ বিধায় সময় স্বল্পতা এবং জরুরি প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে সরাসরি ক্রয়ের বিষয়টি বিবেচনা করার প্রস্তাব করে (ইআরডি)।
এ বিষয়টি বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে।
জানা গেছে, সাপোর্ট টু সাসটেন্যাবল গ্রাজুয়েশন প্রকল্পে উত্তরণ সম্পর্কিত বিষয়ে অ্যাডভোকেসি ও ক্যাম্পেইন কার্যকমের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী একযোগে এ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ৪৮৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পাওয়া গেলে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের অনুমোদিত বাজেটের মধ্যেই এক বা একাধিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছ তেকে প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা ক্রয় করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে আমরা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারবো। জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে সরকার কি কি প্রকল্প হাতে নিয়েছে, কত টাকা ব্যয় হবে, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে জনগণকে সম্পৃক্ত করা যাবে। এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। জনগণ সরাসরি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন। দুর্নীতি কমবে। অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। তবে কত টাকা ব্যয় হবে সেটি এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। ক্রয় প্রক্রিয়া যখন শুরু হবে তখন এটা নির্ধারণ করা হবে।


