আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রাক্তন সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন সে দেশের একটি বিশেষ আদালত।
২০০৭ সালে অবৈধভাবে সংবিধান স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারির জন্য দোষী সাব্যস্ত করে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডন ও বিবিসি।
পেশোয়ার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ওয়াকার আহমাদ শেঠের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের বিশেষ আদালত মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন।
প্যানেলের অন্য দুই বিচারক হলেন- সিন্ধ হাইকোর্টের বিচারপতি নজর আকবর এবং লাহোর হাইকোর্টের বিচারপতি শহীদ করিম।
এর আগে পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ওই মামলা করা হয়। সে সময় ক্ষমতায় ছিল নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ। ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ বিশেষ আদালতে এ মামলায় মোশাররফকে অভিযুক্ত করে বিচার শুরু হয়।
পরবর্তীতে মামলার বিচারের কাজ ঝুলে যায়। ২০১৬ সালের মার্চে চিকিৎসার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই যান তিনি এবং সেখানেই এখনও অবস্থান করছেন।
১৯৯১ সালে সামরিক অভু্যত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন পারভেজ মোশাররফ। এরপর ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি।
এদিকে দণ্ড ঘোষিত হওয়ার পর দুবাই থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন মোশাররফ।
পাকিস্তানের প্রাক্তন এই সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমি দশ বছর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছি। দেশের জন্য লড়াই করেছি। এই মামলায় আমার বক্তব্যও শোনা হয়নি, অথচ আমাকে দোষী বানানো হয়েছে।’
ডন জানিয়েছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন পারভেজ মোশাররফ। তবে সুপ্রিম কোর্টেও এই রায় বহাল থাকলে তার সামনে তখন কেবল একটি সুযোগ থাকবে। আর সেটি হচ্ছে প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া।


