
নিজস্ব প্রতিবেদক : রপ্তানিমুখী নয় এমন বা লেকাল তৈরি পোশাক কারখানায় মোট কর্মীদের ৪৭ শতাংশ শিশু শ্রমিক বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ)।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘এলিমিনেশন অব চাইল্ড লেবার ইন লোকাল আরএমজি : চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক সভায় রাজধানীর কেরানিগঞ্জ এলাকায় করা বিএলএফের এক জরিপ উদ্বৃত করে সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে।
বিএলএফ’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান খান বলেন, ‘রপ্তানীযোগ্য তৈরি পোশাক কারখানার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারের জন্যও তৈরি পোশাক কারখানা গড়ে উঠেছে। এটা নিরব বিপ্লব। এগুলোর বেশিরভাগই ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুরের দিকে গড়ে উঠেছে। পাঁচ থেকে ৫০ জন শ্রমিকদ্বারা পরিচালিত এসব কারখানাগুলো দেশীয় বাজারের ৮০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে। ’
শুধুমাত্র কেরানিগঞ্জে করা জরিপে তথ্য তুলে ধরে মাহমুদুল হাসান খান বলেন, ‘সেখানে শিশু শ্রমিকদের হার ৪৭ শতাংশ এবং প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিকদের হার ৫৩ শতাংশ। কাজ করা শিশুদের মধ্যে পাঁচ থেকে ১৪ বছর বয়সীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার, পাঁচ থেকে ১৮ বছর বয়সী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় এক লাখ ২০ হাজারের মতো। আর ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা প্রায় এক লাখ ২০ হাজারের মতো। শতভাগ শিশুই ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সঙ্গে জড়িত।’
জরিপে দেখা গেছে, কেরানীগঞ্জে কর্মরত শিশু শ্রমিকদের মধ্যে ১২ বছরের নিচে দুই দশমিক ৬৪ শতাংশ, ১২ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ১৪ থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত ৮৩.৪৬ শতাংশ রয়েছ।
কর্মরত শিশু শ্রমিকদের মধ্যে চার দশমিক দুই শতাংশের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, পাঁচ দশমিক পাঁচ শতাংশ শুধুমাত্র স্বাক্ষর করতে পারে, ৭৩ দশমিক ছয় শতাংশ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে ১৬ দশমিক দুই শতাংশ এবং শূন্য দশমিক দুই শতাংশ শিশু নবম ও দশম শ্রেণিতে পড়েছে।
কর্মরত শিশুদের ৪৮ শতাংশ হেলপার বা নবীশ হিসেবে কাজ করে, ২২ শতাংশ অপারেটর, দুই শতাংশ ডাইয়িং ও ওয়াশিংয়ে হেলপার হিসেবে, দুই শতাংশ বিক্রয় সহযোগী হিসেবে, এক শতাংশ কাপড় পরিবহনে, ২৪ শতাংশ কাপড় কাটায় এবং এক শতাংশ কাটিং মাস্টার হিসেবে কাজ করে।
মাহমুদুল হাসান খান বলেন, ‘কেরানীগঞ্জে একজন শিশু ১৩ ঘণ্টা থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করে। ১৪ বছরের নিচের শিশুরা শিক্ষানবীশ হিসেবে কাজ শুরু করে এবং দুই বছর পর্যন্ত তারা কোনো সুযোগ সুবিধা পায় না। সেখানে কোনো ছুটি নেই এবং কর্মীরা নো ওয়ার্ক, নো পে বেসিসে কাজ করে।’

