বিশেষ প্রতিবেদক : বঙ্গবন্ধুর নীতি ও ত্যাগের আদর্শ নিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে যুবলীগ নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও যুব সমাজকে সব ধরনের বিভ্রান্তি থেকে দূরে রাখতে। তারা যেন হতাশাগ্রস্ত না হয়ে পড়ে সে লক্ষ্যে একটি যুব সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা থেকেই শেখ ফজলুল হক মনিকে যুবলীগ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।’
শনিবার কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে যুবলীগের সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
লালমাই উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এম এ মোতালেবের সভাপতিত্বে সমাবেশে লালমাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মালেক, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার, লালমাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হামিদ, লালমাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কল্যাণ মিত্র সিংহ (রতন), লালমাই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজুমদারসহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
যুবলীগের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর দেশের প্রথম যুব সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত নবজাতক বাংলাদেশের তরুণ যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে আদর্শিক দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজে লাগানোই ছিল যুবলীগ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুজিব ভাবাদর্শের এই সংগঠনটি আজ উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ যুব সংগঠন হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যুবলীগ নেতাকর্মীরা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দেশগড়ার কাজে আত্মনিয়োগের পাশাপাশি অপশক্তির অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে বারংবার রাজপথে রক্ত দিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। যুবলীগ নেতাদের বঙ্গবন্ধুর নীতি ও ত্যাগের আদর্শ নিয়ে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, “সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া কোনো যুবলীগ কর্মীর নীতি হতে পারেন। তাই সবসময় সবাইকে মনে রাখতে হবে সততাই সবচেয়ে বড় শক্তি। একটা দেশ গড়ে তুলতে হলে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আমাদের যুব সমাজের মেধা, তাদের শক্তি, তাদের মননকে কাজে লাগানো। আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে ভোগে নয়, ত্যাগেই হচ্ছে মহত্ব। কী পেলাম, কী পেলাম না, সে চিন্তা নয়; মানুষকে কতটুকু দিতে পারলাম, কতটুকু মানুষের জন্য করতে পারলাম সেটাই হবে রাজনীতিবিদের চিন্তা-ভাবনা।’
‘বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে সুন্দর সময় আমরা পার করছি এখন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে এখন সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। গত দুই দশকে পৃথিবীতে কয়েকবার অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। ১৯৯৭ সালে বিশ্বে যে মহা অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল তাতে ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার বেশ কিছু দেশ চরম অবস্থায় পতিত হয়। আর ২০০৮ সালের বিপর্যয়ে খোদ আমেরিকাসহ অনেক দেশে চরম অবস্থার সৃষ্টি হয়। কিন্তু তখনও আমাদের অর্থনীতি বিপর্যের সম্মুখীন হয়নি। এখন পৃথিবীতে তৃতীয় চরম অবস্থা বিরাজ করছে আর সেটি হচ্ছে তথাকথিত বাণিজ্য যুদ্ধ।”
তিনি বলেন, “চলমান এই বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের অথনীতিতে নিম্নমুখিতা দেখা দিয়েছে। এতে চীনের প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক চার শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে নেমে গেছে, কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। এটাকে কোনো কল্প কাহিনীর মত মনে হলেও এটাই বাস্তবতা। এতে সবচেয়ে বড় অবদান বাংলাদেশের মানুষের। কেননা, আমাদের উৎপাদন আর চাহিদা আমাদের নিজেরাই তৈরি করি। ফলে আমাদের আর্থিক খাতে এই মুহূর্তে কোনো রকম ঝুঁকি নেই।’
‘বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ বাংলাদেশের অর্থনীতির ভূয়সী প্রশংসা করেছে। আমাদের অগ্রগতি দেখে তারা অভিভূত। অন্য দেশগুলোর কাছে আমাদেরকে তারা ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে। আমাদের রয়েছে কর্মদক্ষ ভবিষ্যৎ যুবশক্তির সম্ভাবনা। ২০৩০ সাল নাগাদ ৩ কোটি যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে এবং তখন কারো কর্মসংস্থানের অভাব থাকবে না।”
মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ঘিরে আগামী বছর ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনকালে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বর্তমান সরকার। বাংলাদেশের একটি ঘরও অন্ধকার থাকবে না। কাজের গতি বাড়বে, সময় বাড়বে। ২০০৯-এ আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ করব, সত্যি আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।’

