ঢাকাSaturday , 30 November 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১২তম জাতীয় আয়কর দিবস আজ

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর’-এই স্লোগানে দেশে উদযাপিত হচ্ছে জাতীয় আয়কর দিবস -২০১৯।
আয়কর বিষয়ে জনসচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর শনিবার (৩০ নভেম্বর) সারা দেশে দিবসটি উদযাপন করবে।
‘কর প্রদানে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নিশ্চিত হোক রূপকল্প বাস্তবায়ন’ প্রতিপাদ্যে ১২তম আয়কর দিবসে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
২০০৮ সাল থেকে দেশে উদযাপিত হচ্ছে আয়কর দিবস। যদিও আগে প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর আয়কর দিবস উদযাপিত হতো। তবে ২০১৬ সাল থেকে ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবস পালন করছে এনবিআর।
এদিন ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দেওয়ারও শেষ দিন। তবে এবার করদাতাদের সুবিধার্থে আগামি ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দিয়েছে এনবিআর।
এজন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে অনুরোধ করেছে এনবিআর। নির্ধারিত সময়ের পরে দুই শতাংশ হারে বিলম্ব সুদ গুণতে হবে করদাতাদের। তবে বিলম্ব সুদ পরিশোধ করে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে যে কোনো করদাতা ইচ্ছে করলে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় বাড়িয়ে নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট উপ কর কমিশনার বরাবর আবেদন করা হলে তিনি আয়করদাতাকে দুই মাস পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দিতে পারেন।
আয়কর দিবস উপলক্ষে শনিবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে রাজস্ব ভবন প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য র্যা লির আয়োজন করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উক্ত র্যা লির নেতৃত্ব দাবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।
এতে রাজস্ব কর্মকর্তারা ছাড়াও সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গণের জাতীয় পর্যায়ের সেলিব্রেটি, আয়কর আইনজীবী, সংবাদকর্মীসহ সর্বস্তরের ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করবেন।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে অভ্যন্তরীণ সম্পদের পর্যাপ্ত যোগান অপরিহার্য। মুক্তবাজার অর্থনীতির এ যুগে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের উৎস হিসেবে আয়করের গুরুত্বও প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আবদুল হামিদ বলেন, আয়কর কেবল রাজস্ব আহরণেরই প্রধান খাত নয়, ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে সম্পদের বৈষম্য দূরীকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায়ও কার্যকরী একটি মাধ্যম।
তিনি মনে করেন ‘সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর’-এই স্লোগান সামনে রেখে এ বছর জাতীয় আয়কর দিবসের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য ‘কর প্রদানে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নিশ্চিত হোক রূপকল্প বাস্তবায়ন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যথার্থ হয়েছে।।
অন্যদিকে বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কর আহরণের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করা কর বিভাগের প্রধান কাজ।
কর প্রদানে দেশের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন উদ্ভাবনীমূলক কর্মসূচি গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের রাজস্ব ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছর আয়কর মেলায় করদাতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও অভূতপূর্ব সাড়া কর আহরণের ক্ষেত্রে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। সাত দিনে রেকর্ড পরিমাণ আয়কর আহরিত হওয়ায় তিনি সম্মানিত করদাতা ও নাগরিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আয়কর প্রদানকে সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এবং করদাতাগণকে স্বপ্রণোদিতভাবে কর প্রদানে আগ্রহী ও অনুপ্রাণিত করতে প্রতি বছর এনবিআর ৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪১ জন করদাতাকে ট্যাক্স কার্ড প্রদানের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ও দীর্ঘমেয়াদি কর প্রদানের ভিত্তিতে ৫১৮ জন করদাতাকে সম্মাননা সনদ প্রদান করে।
করদাতাদের প্রত্যাশা পূরণে এবারও এক ছাদের নিচে সকল সুবিধা নিয়ে ১৪ থেকে ২০নভেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের মেলায় মোট দুই হাজার ৬১৩ কোটি ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৬৭টাকা কর আদায় হয়। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা বেশি। ২০১৮ সালে মেলায় কর আদায় হয়েছিল দুই হাজার ৪৬৮ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৯৫ টাকা।
দশমবারের মতো আয়োজিত আয়কর মেলা থেকে সেবা গ্রহণ করেছেন রেকর্ড ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ৩৮৬ জন করদাতা। আর রিটার্ন দাখিল হয়েছে ৬ লাখ ৫৫হাজার ৯৫ এবং নতুন ই-টিআইন নিবন্ধন নিয়েছেন ৩২ হাজার ৯৬১ জন করদাতা।