ঢাকাWednesday , 6 November 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যেখানে সেখানে শিল্পকারখানা স্থাপন করা যাবে না

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি জমি বাঁচানোর কথা জানিয়ে যেখানে সেখানে শিল্পকারখানা স্থাপন করা যাবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, আমরা শিল্পায়নে উন্নত হব, তবে সেটি কৃষিকে অবহেলা করে নয়, কৃষিকে বাঁচিয়ে।
বুধবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কৃষক লীগের দশম জাতীয় সম্মেলন প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কৃষি জমি যেন নষ্ট না হয়। যেখানে সেখানে ইন্ডাস্ট্রি করবে, সেটি করতে পারবে না কেউ। ফসলি জমিতে তো করতেই পারবে না। আর যদি এক ফসলি জমি হয়, চাষ হয় না সে জায়গায়ও না। যত্রতত্র ইন্ডাস্ট্রি করা বন্ধ করে দিচ্ছি।’
‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। যদি কেউ করতে চায় সেখানে তাদের প্লট দেয়া হবে। সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। সেখানেই শিল্প গড়ে তুলবে। আমার কৃষি জমি বাঁচাতে হবে। প্রায় ১৬ কোটি মানুষকে খাবার দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখন আমরা পুষ্টির দিকে নজর দিয়েছি। ডিম উৎপাদন বাড়াচ্ছি। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। সবজি উৎপাদনে আমরা দ্বিতীয় অবস্থানে আছি।’
কৃষিকে বাঁচিয়ে শিল্পে উন্নত হওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশ উন্নত হবে, আমরা শিল্পায়নে যাব; তবে কৃষিকে ত্যাগ করে নয়, কৃষিকে বাঁচিয়ে তারপর।’
তিনি বলেন, ‘সরকার কৃষককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। বিএনপির আমলে সার চাইতে গিয়ে ১৮ জন কৃষককে গুলি করে মেরেছে। আর আমরা প্রথম কেবিনেট মিটিংয়ে সব প্রকার সারের দাম কমিয়ে দিলাম। আমরা কৃষককে ভর্তুকি দিচ্ছি। স্বল্প মূল্যে সার পৌঁছে দিচ্ছি। সেভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
এর আগে বেলা ১১টা ৭ মিনিটে সম্মেলন স্থলে পৌঁছান শেখ হাসিনা। তার আগমনকে কেন্দ্র করে স্লোগান আর করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দলীয় নেত্রীকে বরণ করে নেন কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা। মঞ্চে উঠে শেখ হাসিনা নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিনন্দনের জবাব দেন। পরে শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে জাতীয় সংগীত গেয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় একযোগে ৬৪ জেলার পক্ষে কৃষক লীগের পতাকা উত্তোলন করেন জেলা সভাপতিরা।
আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী এ সংগঠনের এটি ১০ম সম্মেলন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয় সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৯ জুলাই। ৩ বছরের কমিটির মেয়াদ থাকলেও চলেছে প্রায় ৮ বছর।
কৃষকদের কল্যাণে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১১বছরে আমরা কৃষি খাতে ৬৫ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছি। ২০০৮-০৯ বাজেটে কৃষিতে বরাদ্দ ছিলে ৬ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা। সেই সঙ্গে আমরা ১৯-২০ সালে ১৪ হাজার ৫৩ কোটি কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি। আমরা কৃষিতে প্রণোদনা দিয়েছি ১ হাজার ২৭ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে ৭৯ লাখ কৃষক উপকিৃত হচ্ছে। প্রায় তিন কোটি কৃষকে কৃষি উপকরণ দিচ্ছি।
‘বিনা জামানতে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়েছে। যেদিন আমরা সেই ঘোষণা দিলাম, তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ও সাইফুর রহমান বললেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ঘোষণা ভালো না। এতে বিদেশি সহায়তা পাওয়া যায়। অন্য দেশের কাছ থেকে কেন সারাজীবন হাত পাততে হবে? এজন্য কি বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, ত্রিশ লক্ষ শহীদ জীবন দিয়েছে। মোটেই না। আমরা তা হতে দেব না। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকে না। আমরা ভিক্ষুক জাতি হতে চাই না। আজকে বাংলাদেশ খাদ্যে উদ্বৃত।”
তিনি বলেন, ‘কৃষক যাতে ১০টায় ব্যাংক হিসাব খুলতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আজকে ১ কোটি ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৪৮টি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। তাদের টাকা সরাসরি সেই অ্যাকাউন্টে দেই।’
ফসল উৎপাদনে কোনো জমি যাতে অনাবাদী না থাকে সেই বিসয়ে গুরুত্বারোপ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প আমরা করছি। কেউ বসে থাকবে না। যে যেভাবে উৎপাদন করতে চায় আমরা সেই সুযোগ করে দেব। একফোঁটা জমিও অনাবাদী থাকবে না। অনেকে পড়াশোনা করার পর জমিতে যেতে চায় না। নিজেদের জমিতে ফসল ফলানো সবচেয়ে গর্বের। লেখাপড়া জানতে মাঠে যাবে না সেই চিন্তা থাকা উচিত নয়। এই বিষয়ে কৃষক লীগের ভূমিকা থাকা উচিত।’
এ সময় নিত্য নতুন জাতের ফসল উৎপাদনে গবেষণার ওপর জোর দেন তিনি। কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করতে চান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কৃষকরা তার উৎপাদিত ফসল সম্পর্কে জানতে পারে, পরামর্শ নিতে পারে।’
তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে কৃষকরা সবচেয়ে বঞ্চিত-শোষিত ছিল। এজন্য বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন। কৃষকদের বঞ্চনা থেকে মুক্ত করতে জাতির পিতা সংগ্রাম করেছেন। কৃষকরা ফসল তুলে ঘরে তুলতে পারতো না।
এ সময় বঙ্গবন্ধুর কৃষক লীগ সংগঠন গড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যাতে কৃষক তার অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারে সেজন্য এই সংগঠন গড়েছিলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সম্মেলন উদ্বোধনের পর পবিত্র আল কোরআনসহ ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন কৃষক লীগের সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক। গীতা থেকে পাঠ করেন চন্দন জোতষী। বাইবেল থেকে পাঠ করেন গৌড়িয়া ঝর্না। ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন নৃঞ নৃঞ ক্ষেতো। ধর্মগ্রন্থ পাঠের পর প্রধান অতিথিকে কৃষক লীগের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংগঠনটির নেত্রী উম্মে কুলসুম ও হোসনে আরা। প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের ব্যাজ পরিয়ে দেন কৃষক লীগের মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ও সাংসদ শামীমা শাহরিয়ার।
‘যদি রাত পোহালে শোনা যেতো বঙ্গবন্ধু মরে নাই’, ‘কৃষক বাঁচাও দেশ বাঁচাও’ শীর্ষক গানের পর পরিবেশন করা হবে কৃষকদের গ্রামীণ নৃত্য। পরে বায়ান্ন থেকে একাত্তর পর্যন্ত শহীদদের স্মরণে শোক প্রস্তাব থাকবে। এরপর সভাপতির স্বাগত ভাষণের পর সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা। প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের পর সম্মেলনের প্রথম সেশনের কর্মকাণ্ড সমাপ্তি হয়।