ঢাকাSaturday , 26 October 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সেশন জটের কবলে হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

Link Copied!

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা : দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) প্রায় সবগুলো অনুষদের বেশির ভাগ বিভাগে ভয়াবহ সেশন জট সৃষ্টি হয়েছে।
বিভাগগুলোর জটের কারণে শিক্ষার্থীদের ছয় মাসের এক সেমিস্টার শেষ করতে লাগছে ৭ মাসেরও বেশি সময়। ফলে শিক্ষার্থীদের চার বছর মেয়াদী স্নাতক শেষ করতে প্রায় পাঁচ বছর এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করতে ছয় বছরেও বেশি সময় লাগছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মূল্যবান সময়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ একাডেমিক রুটিন অনুযায়ী ক্লাস-পরীক্ষা নিতে শিক্ষকদের অনীহা ও স্বেচ্ছাচারিতা, যথাসময়ে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন না করা, ফল প্রকাশে বিলম্বিত করা, ছাত্র-শিক্ষকদের বিভিন্ন আন্দোলন সেশন জটকে আরো তীব্র করছে।
২০১৫ শিক্ষাবর্ষে রসায়ন বিভাগের ১ম ব্যাচের ভর্তি নেয়া হয়। ৪ বছর ১০ মাসে তারা স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করে। ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ১০ মাসের সেশন জটকে সঙ্গে করে কিছু দিনের মধ্যে শুরু করবে ৭ম সেমিষ্টার। ২০১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ১০ মাস পিছিয়ে এখনো ৪র্থ সেমিস্টারে এবং ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ৫ মাস সেশন জটে ইতোমধ্যেই আটকে পড়েছে। এমনকি ২য় সেমিস্টারের ফলাফলও প্রকাশ হয়নি ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সেশন জট সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যণীয়। এ বিভাগের শিক্ষক সল্পতার কারণে ক্লাস পরীক্ষায় কোনো ধরনের একাডেমিক রুটিন মানা হয় না। ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ৮ মাস পিছিয়ে থেকে ৭ম সেমিস্টার কেবল শুরু করেছে। ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে ৫ মাসের সেশন জটে আটকে পড়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অন্য বিভাগগুলোর ৩য় সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হলেও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
শুধু নতুন বিভাগ গুলোতেই নয়, শেষন জটের ফাঁদে বন্দি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব থেকে পুরাতন অনুষদ কৃষিও। ২০১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ৬ মাসের সেশন জটে ৭ম সেমিস্টারের মিড পরীক্ষা দিচ্ছে। ২০১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ৭ মাসের সেশনজটে ৫ম সেমিস্টারে এবং ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে ৫ মাস পিছিয়ে ৩য় সেমিস্টারে; প্রকাশিত হয়নি ২য় সেমিস্টারের ফলাফল।
এছাড়াও ফুড অ্যান্ড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৫ ব্যাচের শুধু অনার্স শেষ হতেই ৯ মাসের সেশনজটে পরতে হয়েছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসের ৭ তারিখে ক্লাস শুরু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম ব্যাচের ৬ মাসে এক সেমিস্টার হিসেব অনুযায়ী ৪র্থ সেমিস্টারের মিড পরীক্ষা দেয়ার কথা, কিন্তু তাদের এখনো ৩য় সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়নি। এমনকি কোনো কোনো বিভাগের ২য় সেমিস্টারের ফলাফলও প্রকাশিত হয়নি বলে জানা যায়। ২০১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আরো ভয়াবহ অবস্থা। ইতোমধ্যে (১৭ ব্যাচ) পরিসংখ্যান বিভাগ ১০ মাস, ফুড অ্যান্ড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং ও এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ৭ মাস; ইসিই ৮ মাস; ইইই ৯ মাসসহ বেশির ভাগ বিভাগেই সেশন জট ৬ মাসের বেশি।
শুধু এই বিভাগগুলোরই এমন অবস্থা তা না, প্রায় সব বিভাগেই সেশন জট সমস্যা বিদ্যমান। তবে নানা অসঙ্গতি ও অপ্রতুলতা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগ সেশন জটের কড়াল গ্রাস থেকে মুক্ত রয়েছে অনেকাংশে। উৎকৃষ্ট উদাহরণ মাৎস্যবিজ্ঞান এবং ব্যবসা শিক্ষা অনুষদ।
চলতি বছরের শুরুতে শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট আদায়ের আন্দোলন এই সেশন জটকে ত্বরান্বিত করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। এদিকে শিক্ষার্থীদের সেশন জট নিরসন কিংবা সেশন জট সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. ফজলুল হক।
একাডেমিক রুটিন অনুযায়ী ক্লাস-পরীক্ষা নিতে শিক্ষকদের অনীহা কিংবা স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল কাসেমও পর্যালেচনা করেছেন বলে জানান তিনি।
রেজিস্ট্রার বলেন, ‘আমরা পর্যালোচনা করে সেই সব শিক্ষকদের মৌখিকভাবে জানিয়েছি। আমরা প্রশাসন থেকে কখনই চাই না সেশন জটের ফলে শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে একদিনও জিম্মি থাকুক। তবে, সেশনজট তো আর একদিনে সৃষ্টি হয় না, আবার সেটা নিরসনে অনেক সময়ও লাগে। আমরা যতটুকু পারি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করতেছি।’