নিজস্ব প্রতিবেদক : আবাসিক হলে অবৈধভাবে থাকা শিক্ষার্থীদের উৎখাত এবং ছাত্ররাজনীতি বন্ধসহ শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়েছে বুয়েট প্রশাসন। এ সংক্রান্ত নোটিশও জারি করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে বুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত পাঁচটি আদেশ জারি করা হয়।
আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আগামী ১৪ তারিখে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার আগে পাঁচ দফা দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানায়। আজ তা মেনে নিয়ে নোটিশ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থীদের পাঁচ দাবি হলো-
১. আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে এখনই সাময়িক বহিষ্কার করতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট হবে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে মর্মে বুয়েট প্রশাসন থেকে নোটিশ জারি করতে হবে।
২. আবরার হত্যা মামলার সব খরচ বুয়েট প্রশাসন বহন করবে এবং তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য থাকবে। সেটাও নোটিশে লেখা থাকতে হবে।
৩. বুয়েটে সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করে সব হল থেকে অবৈধ ছাত্রদের উৎখাত করতে হবে। অবৈধভাবে হলের সিট দখলকারীদের উৎখাত করতে হবে। সাংগঠনিক ছাত্র সংগঠনগুলোর অফিস রুম সিলগালা করতে হবে। সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের পর ভবিষ্যতে কেউ যদি এরকম সাংগঠনিক কার্যক্রমে জড়িত হয় কিংবা কোনো রকম ছাত্র নির্যাতনে জড়িত হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেবে তা বিস্তারিত জানিয়ে নোটিশ জারি করতে হবে। পরবর্তীতে এটি যে অর্ডিন্যান্সে অন্তর্ভুক্ত থাকবে তা নোটিশে উল্লেখ থাকতে হবে। পাশাপাশি, এ ধরনের কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি কমিটি করতে হবে এবং কমিটি গঠনের বিষয়টিও নোটিশে উল্লেখ করতে হবে।
৪. বুয়েটে আগে ঘটে যাওয়া সব ছাত্র নির্যাতন, হয়রানি, র্যাগিংয়ের ঘটনা এবং ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা প্রকাশের জন্য বিআইআইএস অ্যাকাউন্টে একটি কমন প্ল্যাটফর্ম থাকতে হবে। বিষয়টি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শাস্তি বিধানের জন্য একটি কমিটি থাকতে হবে। বিষয়টি নোটিশের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
৫. প্রত্যেক হলের সব ফ্লোরের দুই পাশে সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে। এই সিসিটিভি ফুটেজ সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে, এই মর্মে নোটিশ আসতে হবে।
বুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে যারা আবাসিক হলের সিট দখল করে আছে তাদের অতিসত্বর হলের সিট খালি করতে হবে।
সাংগঠনিক ছাত্রসংগঠনগুলোর অফিস বন্ধ করে তা সিলগালা করার জন্য ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ব্যবস্থা নেবেন। রোববার থেকে উল্লিখিত কাজগুলো শুরুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি করার চেষ্টা কেউ করলে তার বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিন লঙ্ঘনের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগ আসলে ডিসিপ্লিন কমিটির মাধ্যমে তার দ্রুত বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

