বিনোদন ডেস্ক : ফয়জু মুন্সি ডিভিডিতে বাংলা সিনেমা দেখায়। চায়ের দোকানের পেছনে তার মিনি সিনেমা হল। সেখানে গ্রামের পোলাপানের আড্ডাখানা। দুপুরের শোতে নায়ক জসিম যখন জাম্বুর মাথা ফাটাচ্ছিল বাংলা মদের বোতল দিয়ে, তখন বাড়ি থেকে ফয়জুর বউ সেতারা খবর পাঠায়— উঠানের পাশের নারকেল গাছটি কাঁদছে!
ফকির বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরে ফয়জু। তারা নারকেল গাছের গোড়ায় সারাদিন বসে থাকে। সন্ধ্যা নামলে আবারো বাচ্চা কাঁদে। ফকির বাবা ঘোষণা দেয়— এটা আধ্যাত্মিক নারকেল গাছ। এই গাছের ছাল খেলে বন্ধ্যা মেয়েদের বাচ্চা হবে, অসুখ সারবে।
কথা রটে যায় পুরো অভিরামপুর গ্রামে। শুরু হয় পানি পড়া, গাছের ছাল নেবার লাইন। নারকেল গাছটির নিচে চেয়ার টেবিল নিয়ে বসে যায় ফয়জু মুন্সি। ফকির বাবা পানি পড়া দেয়। ফয়জু টাকা পয়সা, হাস-মুরগি, লাউ-কুমড়া সবকিছু বুঝে নেয়। রোগীর ঢল নামলে সিকিউরিটি নিয়োগ দেয় ফয়জু। নগদ টাকার গরমে স্ত্রী সেতারা আর ফয়জু তখন আনন্দে ভাসে।
এই চিত্রকল্পের মাধ্যমে ভেসে ওঠে গ্রাম বাংলার কু-সংস্কারের বড় অংশ। সেই গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে একক নাটক ‘ফয়জু মুন্সির নারকেল গাছ’। এটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন হিমু আকরাম। এতে ফয়জু মুন্সি চরিত্রে অভিনয় করেছেন সালাহউদ্দীন লাভলু আর সেতারা চরিত্রে তারিন।
সালাহউদ্দীন লাভলু বলেন, ‘নাটকটিতে আমি ফয়জু চরিত্রে অভিনয় করেছি। গ্রামে চায়ের দোকানে মিনি সিনেমা হল চালাই। আমার নারকেল গাছের কান্না শুনে মানুষের ভিড় বাড়ে বাড়িতে। সিনেমা হল বন্ধ করে শুরু হয় পানি পড়ার ব্যবসা। সব মিলিয়ে চরিত্রটি বেশ মজার। যদিও এই নাটকের শেষ দিকে দর্শকরা অন্য একটি গল্প পাবেন। যেটা এভাবে ভাবেননি কখনো।’
নির্মাতা-নাট্যকার হিমু আকরাম বলেন, ‘এক কথায় আমাদের ফেলে আসা জীবনের গল্প এটি। ছোটবেলায় গ্রামে এই ধরনের বহু ঘটনা দেখেছি। তারই আধুনিক রূপায়নে ফয়জু মুন্সির নারকেল গাছ। তবে গল্পের শেষটা অন্যরকম হবে।’
নাটকটির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিদ্দিকুর রহমান, হুমায়ূন সাধু, কাজী উজ্জ্বল, আলামিন, মাসুদ রানা মিঠু প্রমুখ। ঈদুল আজহায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভিতে নাটকটি প্রচার হবে বলেও জানিয়েছেন নির্মাতা হিমু আকরাম।

