নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দীকে সোমবার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে।
আজ দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন মুঠোফোনে বলেন, আশা করি সিঙ্গাপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে এসে পৌঁছাবে। আর তাকে নিয়ে রওনা দিতে অন্তত সন্ধ্যা ৭টা বেজে যাবে। সুবীর নন্দীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরে শুধু তার মেয়েই যাবনে বলে তিনি জানান।
সিঙ্গাপুর থেকে নিতে আসা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কারা থাকবেন তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি তিনি।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান বলেন, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার মতো যতটুকু শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়া প্রয়োজন ততটুকু উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়নি। এখনো লাইফ সাপোর্টেই আছে।
গত ১৪ এপ্রিল রাতে পরিবারসহ সিলেট থেকে ফিরছিলেন সুবীর নন্দী। উত্তরার কাছাকাছি আসতেই হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়।
গত ১৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুবীর নন্দীকে সিঙ্গাপুরে দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এদিনই তার চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজগপত্র সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তবে ওই সময় সিঙ্গাপুরে পাঠানোর মতো সুবীর নন্দীর শারীরিক অবস্থা ছিলো না।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৯৮ সালেও সুবীর নন্দীর চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী দুই দফায় সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েছেন।
৪০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন সুবীর নন্দী। বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে গেয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। চলচ্চিত্রে প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত সূর্যগ্রহণ চলচ্চিত্রে। ১৯৮১ সালে তার একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ ডিসকো রেকর্ডিংয়ের ব্যানারে বাজারে আসে। তিনি গানের পাশাপাশি দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন ব্যাংকে।
তিনি মূলত চলচ্চিত্রের গানে কন্ঠ দিয়েই খ্যাতি অর্জন করেন। চলচ্চিত্রের সঙ্গীতে তার অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করেন। তিনি মহানায়ক (১৯৮৪), শুভদা (১৯৮৬), শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯৯), মেঘের পরে মেঘ (২০০৪) ও মহুয়া সুন্দরী (২০১৫) চলচ্চিত্রের গানে কন্ঠ দিয়ে পাঁচবার এই পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৭৭, ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ সালে বাচসস পুরস্কার পান।
সঙ্গীতে অবদানের জন্য এবছরই বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করেন।

