স্পোর্টস ডেস্ক : টেস্ট হোক বা ওয়ানডে, ম্যাচের আগের দিন ম্যাচ ভেন্যুতে একবার ঢুঁ মেরে যান ম্যাচ অফিসিয়ালরা। আজও তেমন হলো। সকালের প্রখর রোদে মাঠে ঘুরে যান ম্যাচ রেফারি ডেভিন বুন এবং চট্টগ্রাম টেস্টের দুই অনফিল্ড আম্পায়ার আলীম দার ও রিচার্ড ইলিংয়র্থ।
শেষবার যখন ডেভিড বুন বন্দরনগরীর স্টেডিয়ামে টেস্টের জন্য পা দিয়েছিলেন, তখন কপাল পুড়েছিল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের। বছরের দ্বিতীয় মাসে সাগর-পাড়ের স্টেডিয়ামে খেলেছিল শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ। অতিরিক্ত ব্যাটিংবান্ধব উইকেট বলে ডেডিড বুন তার রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন।
তার রিপোর্টের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম টেস্টের উইকেটকে ‘বিলো অ্যাভারেজ’ (গড়পড়তা মানের নিচে) রেটিং দিয়েছিল আইসিসি। পাশাপাশি জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের নামের পাশে যোগ হয় একটি ডিমেরিট পয়েন্ট। পাঁচ বছর সক্রিয় থাকবে এ ডিমেরিট পয়েন্ট। পাঁচ বছরের মধ্যে মোট ৫ ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে এক বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হবে এই ভেন্যু।
সেবার চট্টগ্রাম টেস্টের উইকেটকে ‘বিলো অ্যাভারেজ’ না বলার কারণও ছিল না। বোলারদের জন্য ছিল না তেমন কিছুই। ব্যাটসম্যানরা রান তুলেছিলেন অনায়াসেই। ম্যাচে সেঞ্চুরি হয়েছিল পাঁচটি, হাফ সেঞ্চুরি ছয়টি। পাঁচ দিনে রান উঠেছিল মোট ১৫৩৩ (বাংলাদেশের মাটিতে কোনো টেস্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ), উইকেট পড়েছিল ২৪টি। নিষ্প্রাণ ড্র হওয়া ম্যাচে ছিল না কোনো উত্তেজনা।
তাইতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টের উইকেট কেমন হবে, তা নিয়ে রয়েছে কৌতুহল। হোম কন্ডিশনের সুবিধা আদায় করতে মরিয়া বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান ফেরায় দলে সব মিলিয়ে চার স্পিনার। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে নবাগত নাঈম হাসান। চার স্পিনার নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের চাহিদা স্পিন সহায়ক উইকেট।
ম্যাচের আগের দিন অধিনায়ক সাকিবের কথায় তা অনেকটাই স্পষ্ট, ‘আমার মনে হয় কিউরেটররা ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করছেন। এখন পর্যন্ত আমার কাছে দেখে মনে হচ্ছে উইকেটে বল ঘুরতে পারে।’ উইকেট দেখে সফরকারী দলের অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রাফেটের ভাষ্য, ‘আমরা যেরকম প্রত্যাশা করেছিলাম সেরকমই উইকেট। এখন কিছুটা শুষ্ক আছে। প্রথম ঘন্টায় কিছুটা মুভমেন্ট থাকবে। আমার মতে এটা বাংলাদেশের চিরাচরিত উইকেটের একটি।’
উইকেট যেমনই হোক, সেটা নিয়ে ভাবতে চান না সাকিব, ‘উইকেট নিয়ে আসলে খুব বেশি কথা বলার নেই। দুই দলের সমান সুযোগ থাকবে। খুব একটা অনুমান করা যায় না। যতদিন যায় অনেক সময় আস্তে আস্তে আরো ভালো হতে থাকে উইকেট। আশা করি তেমন কিছু হবে না। ভালো একটা টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য যেমন উইকেট দরকার তেমন উইকেটই হবে।’
সেবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রঙ্গনা হেরাথ, দিলরুয়ান পেরেরা ও লাকশান সান্দাকান যেন ‘সাপেবর’ না হয় সেজন্য ব্যাটিংবান্ধব উইকেট ছিল পরিকল্পনায়। এবার সেই ভয় নেই। এবার প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা স্পিন আক্রমণেই। ‘বিলো অ্যাভারেজ’ থেকে চট্টগ্রামের উইকেটকে ‘বাঁচাতে’ এ টেস্টে নিশ্চিত বদল আনবেন কিউরেটর।

