নিজস্ব প্রতিবেদক : টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ১৮ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০০০ সালে আজকের দিনেই টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত।
বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচের অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়। সে সময়কার বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর হাত ধরে বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন করে।
১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটের গতিপথ হঠাৎ করেই বদলে যায়। এই ট্রফি জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে এবং প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে স্কটল্যান্ড ও শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের আগমনী বার্তা ঘোষণা করে।
এরপর বাংলাদেশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০০ সালের ২৬ জুন আইসিসি বাংলাদেশকে টেস্ট মর্যাদা প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ।
১৮ বছর পূর্তির দিনে র্যাংকিংয়ে ৯ নম্বরে উঠে সেরা সাফল্যেই ভাসছে বাংলাদেশ। এর আগেও বাংলাদেশ টেস্ট র্যাকিংয়ে ৯ নম্বরে ছিল। কিন্তু সেটি নিজেদের যোগ্যতায় নয়। ২০০৬ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে প্রায় ছয় বছরের জন্য নিজেদের সরিয়ে নেয় জিম্বাবুয়ে। এর ফলে টেস্ট খেলেছে নয়টি দেশ। স্বাভাবিকভাবেই ৯ নম্বরে থেকেছে বাংলাদেশ। এখন নিজেদের যোগ্যতায় নয়ে এসেছে বাংলাদেশ।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ১০৯টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে জয় এসেছে ১০ ম্যাচে। হেরেছে ৮৩টিতে। আর ড্র করেছে ১৬ ম্যাচ।
দেশের মাটিতে ছয়টি ও দেশের বাইরে চারটি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্ট খেলার পাঁচ বছর পর ২০০৫ সালে চট্টগ্রামের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জিতে বাংলাদেশ। এরপর অপেক্ষা করতে হয় আরো চার বছর ।
সবশেষ জয়টি গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। যেটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। বাকি নয় জয়ের পাঁচটি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, দুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি করে।
টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ৬৩৮, ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ওই ইনিংসেই দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। সাদা পোশাকে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। চলতি বছর বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল ৪৩ রানে।
দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট রান তামিম ইকবালের (৫৬ ম্যাচে ৪০৪৯ রান)। সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরিও তামিমের (৮টি)। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস সাকিব আল হাসানের (২১৭, ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে)।
সবচেয়ে বেশি উইকেট সাকিবের (৫৬ ম্যাচে ১৯৬ উইকেট)। দেশের হয়ে ১০০ বা এর বেশি উইকেট আছে আর মাত্র একজনের, মোহাম্মদ রফিক। ৩৩ টেস্টে রফিকের উইকেট ঠিক ১০০টি।
দেশকে সবচেয়ে বেশি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম (৩৪টি)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন হাবিবুল বাশার। সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছেন মুশফিকুর রহিম (৬৩টি)।
পরিসংখ্যানে সাফল্যের থেকে ব্যর্থতার পাল্লাই বেশি ভারী বাংলাদেশের। তবে আশার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন এগিয়ে যাচ্ছে। সঠিক পথে হাঁটছেন টাইগাররা। মুশফিক, রিয়াদ, সাকিব, তামিম ও মুমিনুল বাংলাদেশকে নতুন সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

