বিনোদন ডেস্ক : গত ৩১ অক্টোবর কলকাতায় শুরু হয়েছে ‘লোকরঙ্গ ২০১৮’ উৎসব। পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করেছে কলকাতার নাট্যদল কসবা অর্ঘ্য। এতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের পদাতিক নাট্য সংসদ। আগামী ৪ নভেম্বর কলকাতার একাডেমি অব ফাইন আর্টস মঞ্চে দলটি মঞ্চস্থ করবে ‘গহনযাত্রা’ নাটক।
বাংলাদেশ ছাড়াও লোকরঙ্গ উৎসবে পোল্যান্ড, সিঙ্গাপুর অংশ নিয়েছে। পদাতিক নাট্য সংসদের প্রচার ও গণ যোগাযোগ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত হোসেন শিমুল জানান, কলকাতার লোকরঙ্গ উৎসবের শেষ দিন মঞ্চস্থ হবে ‘গহনযাত্রা’ নাটক। এ উপলক্ষে আজ শুক্রবার রাত ১১টায় পদাতিক নাট্য সংসদের একটি দল কলকাতার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবে। নাটকটির প্রদর্শনী শেষ করে ৫ নভেম্বর তারা ঢাকায় ফিরবেন বলেও জানান তিনি।
‘গহনযাত্রা’ নাটকটি রচনা করেছেন রুবাইয়াৎ আহমেদ। নাটকটির নির্দেশনায় রয়েছেন সুদীপ চক্রবর্তী। এতে একক অভিনয় করছেন শামছি আরা সায়েকা।
নাটকের কাহিনি প্রসঙ্গে নির্দেশক সুদীপ চক্রবর্তী জানান, এই ভূখণ্ডের কোনো এক স্থানে জন্ম হয় উগ্রপন্থির। এই পন্থির অনুসারীরা বিপরীত সব মতবাদ প্রত্যাখ্যান করে শুধু একটি মতবাদই প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এজন্য তারা ধ্বংসলীলা চালিয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয়, হত্যা করে অগণিত মানুষ, ধর্ষিত হয় অসংখ্য নারী। ভিন্ন মতাদর্শের এক ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের মানুষদের তারা ধরে নিয়ে বন্দি করে রাখে। বন্দিদশা থেকে পালাতে চায় অনেকে। কিন্তু তারা মারা যায়।
শুধু সালমা নামের একজন বেঁচে যায়। সে ফিরে আসে মাঠে প্রান্তরে পড়ে থাকা লাশগুলো সমাহিত করতে। এই সময়ে সালমা নিজের অভ্যন্তরে টের পায় অপর কারো অস্তিত্ব। সেই অস্তিত্ব হয়তো তারই বর্ধিত কোনো রূপ কিংবা অপররূপে সে নিজেই কিংবা অন্য কিছু। সেই অস্তিত্ব তার সঙ্গী হয়। মৃতদের কবর দেয়ার পর সালমা খোঁজ করে তার প্রার্থিত পুরুষের। সালমা দেখতে পায়, ল্যাম্পপোস্টে সেই পুরুষের ছিন্নমস্তক ঝুলে আছে। সালমা উগ্রপন্থিদের হাতে ধরা পড়ে। তাকে ধর্ষণের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এভাবে এগিয়ে গেছে এ নাটকের কাহিনি।
এ নাটকে নির্দেশনা সহযোগী হিসেবে রয়েছেন সঞ্জীব কুমার দে, সংগীত পরিকল্পনায় সাইম রানা, মঞ্চ পরিকল্পনায় সুদীপ চক্রবর্তী, পোশাক ও রূপসজ্জা পরিকল্পনায় শামছি আরা সায়েকা ও মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় মমিনুল হক দীপু। ‘গহনযাত্রা’ পদাতিক নাট্য সংসদের ৩৯তম প্রযোজনা। ২০১৬ সালের ১১ জুলাই শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটারে নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়।

