ঢাকাFriday , 2 November 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অধিনায়কত্বে অনুপ্রাণিত, উদ্দীপ্ত মাহমুদউল্লাহ

Link Copied!

সিলেট প্রতিনিধি : ক্যারিয়ারের একমাত্র টেস্ট সেঞ্চুরি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কবে হাঁকিয়েছেন তা মনে করতে পারছিলেন না অনেকেই। ২০১৫ বিশ্বকাপে যার জোড়া সেঞ্চুরি, ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যার সেঞ্চুরি রয়েছে তার একমাত্র টেস্ট সেঞ্চুরি কবে? প্রশ্নটা বেশ কঠিনই!
২০১০ সালে হ্যামিল্টনে মাহমুদউল্লাহর ব্যাট হেসেছিল সাদা পোশাকে। ক্যারিয়ার সেরা ১১৫ রানের ইনিংসটি খেলেছিলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর টেস্টে ১৩ বার পঞ্চাশ পেরিয়েছেন। কিন্তু একবারও তিন অঙ্কের ছোঁয়া পাননি। ওয়ানডেতে তার ক্যারিয়ার যতটা বর্নাঢ্য টেস্টে ঠিক ততটাই নাজুক। ৩৯ টেস্টে গড় মাত্র ২৯.৭৭। রান ২০৮৪, সেঞ্চুরি ১টি আর হাফ সেঞ্চুরি ১৫টি।
সেই মাহমুদউল্লাহ এখন টেস্ট অধিনায়ক। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক থেকে হয়েছেন অধিনায়ক। সাকিবের অনুপস্থিতি তাকে আরও একবার অধিনায়কত্বের চেয়ারে বসার সুযোগ দিয়েছে। এমনিতেই নিজের টেস্ট ক্যারিয়ার গুছিয়ে উঠতে পারেননি। সেখানে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব বাড়তি চাপ তার কাঁধে। কিন্তু অধিনায়কত্বের ছোঁয়ায় নিজের ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ করতে চান দূর্বার মাহমুদউল্লাহ। অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন নিজের নতুন ভূমিকায়।
‘‘অধিনায়কত্ব আমাকে আমার খেলায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ দেয়। আমাকে প্রভাবিত করে এবং বাড়তি দায়িত্ব এনে দেয় যে, আমি যেন আমার সেরা পারফরম্যান্স দলের জন্য দিতে পারি। আমার মনে হয় যদি অধিনায়কত্ব করি কিংবা না করি, আমাকে আগে খেলোয়াড় হিসেবেও চিন্তা করতে হবে যে দলকে কিভাবে সার্ভিস দিচ্ছি। এটা আমি চিন্তা করি। এ দায়িত্বটা আসলে উপভোগ করি এবং চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে পছন্দ করি। আমার মনে হয় এটা আমাকে খেলায় ও সাহায্য করে।’’
‘‘অধিনায়কত্ব সবসময় আমাকে ভালোভাবে নাড়া দেয়। আগেই বলেছি এই দায়িত্বটা আমি সবসময় উপভোগ করার চেষ্টা করি। দলের সবাই কমবেশি হেল্পফুল। এখন আমি ভালো খেলার অপেক্ষায় আছি। ’’
‘‘সহ-অধিনায়ক হিসেবে এই মুহূর্তে আমার কাঁধে দলের দায়িত্ব। আমি আমার শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করব যেন ইতিবাচক ফল নিয়ে আসতে পারি । অধিনায়কত্ব করা প্রত্যেকটি খেলোয়াড়ের জন্য ভালো লাগার একটা বিষয়। এটা একজন খেলোয়াড়কে তার দেশকে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি করে দেয়। পাশাপাশি অধিনায়কত্ব একটা দায়িত্বও।’’
২০১৭ সালে বাংলাদেশের শততম টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু সীমিত পরিসরে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সে আবার টেস্ট দলে ঢুকেন। কিন্তু টেস্টে আবার সেই ব্যর্থতার মিছিলে তিনি। ১২ ইনিংসে রান করেছেন মাত্র ২৭৫। রান না পেলেও ব্যর্থতায় শিখছেন অনেক কিছু। পাচ্ছেন এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।
‘‘আমি সবসময় বিশ্বাস করি আমি যদি ব্যর্থ হই তাহলে সেটা আমারই দোষ। আমি সেই সময় ভালো পারফর্ম করছিলাম না। এগুলোই জীবনের শিক্ষার অংশ। আমি সেই জিনিসগুলো থেকে শেখার চেষ্টা করি ও ওই শিক্ষাগুলোই আমাকে সামনে আরো কঠোর পরিশ্রম করার ক্ষেত্রে উৎসাহ দেয়।’’
মাশরাফি নিজের অধিনায়কত্বের আলাদা ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন। সাকিবও তাই। মুশফিকুর রহিম নিজের কারিশমা দেখিয়ে গেছেন। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহরও রয়েছে নিজস্ব চিন্তা, নিজস্ব ভাবনা। অধিনায়কত্বের স্টাইল নিয়ে কথা উঠতেই হাসিমুখে নিজের ভাবনা শেয়ার করলেন।
‘‘আমি সবসময় খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা দেওয়ার পক্ষে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতা দিলেই যার যার জায়গা থেকে পারফর্ম করার সুযোগটা বেশি থাকে। অনেক সময় অধিনায়কত্বটা গাট ফিলিংয়ের উপর নির্ভর করে। কিন্তু অনেক সময় গাট ফিলিং কাজে নাও লাগতে পারে। আবার পরিস্থিতি অনুযায়ী অধিনায়কত্ব করার ব্যাপারও রয়েছে। দায়িত্বটা এসেছে, আমি আমার দায়িত্ব নিয়েই চিন্তা করছি। দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করাই মূল লক্ষ্য।’’
মাহমুদউল্লাহ জানালেন নিজের উন্নতি করার অনেক জায়গা এখনও আছে তারা। পরিপূর্ণ টেস্ট ক্রিকেটার হতে হলে তার ভুলগুলো শুধরাতে হবে দ্রুত।
‘‘আমার মনে হয় আমার অনেক কিছুই প্রমাণ করার আছে, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। আমার মনে হয় আমার উন্নতির অনেক জায়গা আছে। আমার জন্য এটা ভালো সুযোগ। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আমি চেষ্টা করব।’’
দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন পূরণের পর অধিনায়কত্বের স্বপ্নও পূরণ হয়েছে তার। দুটি টেস্ট চালানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে সিলেটে আগামীকাল মাঠে নামবেন। এবার মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন দীর্ঘ সময় ধরে। রণ কৌশল সাজানোর পর্যাপ্ত সময়ও পেয়েছেন। এবার তার হাতে বিজয়ের পতাকা উড়ে কিনা সেটাই দেখার।