নিজস্ব প্রতিবেদক : পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব জানিয়েছেন, সুন্দরবন রক্ষায় অনেক আগেই শ্যালা নদীতে নৌ চলাচল বন্ধে নৌ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদন উপেক্ষা করে নৌ চলাচল অব্যাহত রাখায় সুন্দরবন আজ এ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তেলের কারণে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না- নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জ্যাকব বলেন, ‘এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত। সুন্দরবনের যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে তা সামাল দিতে প্রয়োজনে বিদেশি সাহায্য চাওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশেই নয়, এটি বিশ্ব ঐতিহ্য। ফার্নেস ওয়েল সুন্দরবনের প্রায় ৫০-৬০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব সূদূরপ্রসারী। এতে অবশ্যই সুন্দরবনের প্রতিবেশ এবং জীব বৈচিত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। কিন্তু এ ক্ষতির মাত্রা কতটুকু গভীর বা কতটুকু ব্যাপ্তি তা গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই বলা যাবে।’
উপমন্ত্রী বলেন, ‘নদী থেকে ফার্নেস অয়েল শোষণ বা অপসারণের কোনো যান্ত্রিক পদ্ধতি না থাকায় স্থানীয় পদ্ধতিতেই তেল অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এর সপক্ষে মতামত দিয়েছেন। প্রয়োজনে বিদেশি সহায়তা নেয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করবো ওই এলাকায় নৌ চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য। এছাড়া, মৎস ও প্রাণী সম্পাদ মন্ত্রণালয়কে মৎস ও প্রাণী সম্পদ রক্ষার জন্য এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেই এলাকার মানবস্বাস্থ্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানাবো।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন এলাকায় একটি ডলফিন মারা গেছে বলে শুনেছি। তবে ডলফিনের গায়ে কোনো ফার্নেস ওয়েল পাওয়া যায়নি।’

