আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানভিত্তিক উগ্রবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তায়েবার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাঈদ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
আগামী বছর পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন। তাতে অংশ নেবে হাফিজের মিল্লি মুসলিম লিগ (এমএমএল)। এমএমএলের হয়ে ভোটে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হাফিজ। শনিবার নিজের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।
গতকাল দলের সদর দপ্তরে বসে হাফিজ জানান, এমএমএল আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য সব রকম প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। হাফিজের দল অবশ্য এখনও নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি পায়নি। নির্বাচনে অংশ নেয়ার পাশাপাশি ভারতের বিরুদ্ধেও হুঙ্কার ছেড়েছেন হাফিজ।
তিনি বলেন, ‘ভারতকে বলতে চাই কাশ্মিরিদের প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। ভারত কাশ্মিরের বাসিন্দাদের কন্ঠস্বর আটকাতে চাইছে। সে জন্য পাকিস্তানের ওপর চাপ তৈরি করছে।’
এ প্রসঙ্গে নওয়াজ শরিফ প্রশাসনকে তার উপদেশ, ‘পর্দার আড়ালে কূটনীতি আসলে কাশ্মিরের সংগ্রামকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’
হাফিজের আরও দাবি, তাকে ও কাশ্মিরের হুরিয়ত নেতাদের আটক রাখাটা আসলে আন্তর্জাতিক এজেন্ডার অংশ। কাশ্মির আন্দোলনকে দুর্বল করতে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ এই জঙ্গি নেতার। কাশ্মিরে ‘অত্যাচার’ বন্ধ না হলে আন্দোলন আরও জোরালো হবে এবং তার ফল ভুগতে হবে বলে নয়াদিল্লির দিকে হুমকিও ছেড়েছেন সাঈদ।
টানা ১০ মাস গৃহবন্দি থাকার পর পাক আদালতের নির্দেশে সপ্তাহ দু’য়েক আগে মুক্তি পেয়েছিলেন সাঈদ। যা নিয়ে নয়াদিল্লির পাশাপাশি, ক্ষোভ প্রকাশ করে ওয়াশিংটনও। গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়ে দেয়, অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে ওই জঙ্গি নেতাকে। সেই মার্কিন চাপেই বাধ্য হয়েই ফের সাঈদকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তান প্রশাসন।

