ঢাকাTuesday , 21 November 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সমাজে ঢেউ তুলতে পারলে দুর্নীতি রোধ সম্ভব

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : যদি সমাজে ঢেউ তুলতে পারা যায় যে, ‘দুর্নীতি ভালো জিনিস নয়, এটা রুখতে হবে’, তাহলে বিচার করা কঠিন হলেও রোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।
মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলেক্ষে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর বলেন, ‘দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের জন্য একটা পরিমণ্ডল প্রয়োজন, বিচার-আচার করে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়। যদি সমাজে একটা ঢেউ তুলতে পারি যে, দুর্নীতি ভালো জিনিস নয়, এটা রুখতে হবে, তাহলে এটার বিচার করা কঠিন হলেও রোধ করা সম্ভব।’
বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সুশীল সমাজ ও মিডিয়াকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সমালোচনা করে ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘যদি রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক ছাড়া বাজার অর্থনীতিতে যান তাহলে প্রবৃদ্ধি হবে, বাণিজ্য ও শিল্পেও প্রবৃদ্ধি হবে। তবে একটু চুরি-ডাকাতি বাড়বে, দুর্নীতি বাড়বে, বাংলাদেশ তাই হয়েছে। বাজার অর্থনীতিতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতিবাজ-লুটেরা অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছে। কারণ হলো ওই যে পরিমণ্ডল। যদি রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক ছাড়া টেকনোলজিক্যাল অ্যাডভান্সমেন্টে চলে যান তাহলে মোবাইল ফান্ড ট্রান্সফার হবে, যাকে মোবাইল ব্যাংকিং বলা হয়। আমি তীব্র ভাষায় নিন্দা করি, ধিক্কার জানাই। আমি এর সমালোচনা করি।’
নিজেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা ট্রান্সফার করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘কিছু দিন আগে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে কয়েক লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেকগুলো এজেন্টের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। কারণ এখানে কোনো নিয়ামক পরিমণ্ডল নেই। বগুড়ায় আমার শিক্ষককে কিছু টাকা পাঠাইতে গিয়ে দেখি, সেখানে গুণে গুণে ২ শতাংশ কেটে রেখেছে। তারপর সেখানে গিয়ে টাকা তুলতে গেলে তার কাছ থেকেও টাকা কেটে নিয়েছে। এই রকম লুটপাট ও ডাকাতি করছে। অথচ ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে ৫০ পয়সা লাগে।’
ই-কমার্সে কোনো কর কাটা হয় না উল্লেখ তিনি বলেন, ‘যারা ই-কমার্সে কেনাকাটা করে তারা কোনো গরিব নন, তারা বড়লোক। তারা টেলিফোনে অর্ডার দেন, বাড়িতে পণ্য চলে আসে, ক্রেডিট কার্ডে টাকা নিয়ে নেয়। যেখানে কোনো ট্যাক্স নেই। একমাত্র বাংলাদেশেই এটা হয়ে থাকে। সেখানে টেক্স বসানোর জন্য পাঁচ বছর ধরে বলছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।’
ব্যক্তিখাতের প্রতিষ্ঠানকে বিদেশি ঋণের সুযোগ দেওয়ার সমালোচনা করে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের এই সভাপতি বলেন, ‘কিছু কিছু ব্যক্তিখাতের প্রতিষ্ঠানকে বাইরে থেকে ঋণ নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যদিও সেখানে সুদ কম। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকে ৩৩ বিলিয়ন ডলার পড়ে আছে, বাংলাদেশের মুদ্রা অবমূল্যায়ন হতে বাধ্য। যখন অবমূল্যায়ন হবে তখন স্বল্প সুদেও হবে না, অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। বাইরে থেকে যারা ঋণ এনেছিলেন আগে সেখানে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ামক ছিল না, যার কারণে ঋণ গ্রহণকারীদের ৯০ শতাংশ ছলে-বলে-কৌশলে বিদেশে ব্যাংক একাউন্টে জমা দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার ৫ শত কোটি ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে। দেশের ভেতরে বিনিয়োগে কিছু সমস্যা আছে, থাকতেই পারে। তাহলে কি দেশের বাইরে টাকা পাঠিয়ে দেবেন?’
দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে কমিশনের দুই কমিশনার ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, সচিব শামসুল আরেফিন বক্তব্য দেন।