ঢাকাWednesday , 25 October 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অ্যাসিড মামলায় কবিরাজের ১২ বছরের কারাদণ্ড

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় নিয়ে নাসিমা আক্তার প্রিয়া নামের এক যুবতীর মুখমণ্ডলে অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সুজন হোসাইন নামের এক কবিরাজের ১২ বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।
বুধবার দুপুরে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি সুজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। এদিকে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী এবং ভিকটিমের মা মোছা. রিনা।
২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী মোছা. রিনার চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে তার যুবতী কন্যা নাসিমা আক্তার প্রিয়াকে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় নিয়ে তার মুখমণ্ডলে কবিরাজ সুজন হোসাইন (৩০) অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন। পাবনার নাজিরপুরের বাবুল প্রামাণিকের ছেলে সুজন হোসাইন পেশায় কবিরাজ। বিভিন্ন তন্ত্রমন্ত্র ও দৈব শক্তি দিয়ে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে পাবনার নাজিরপুরে সবাই তাকে এক নামেই চেনে। সে বাদীপক্ষের পূর্বপরিচিত।
বাদীর বাসার কিছু টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি হয়ে গেলে তা উদ্ধারে সুজনের ডাক পড়ে। ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সুজন তাদের বাড়ি এসে একদিন থেকে তিনদিন পর আবার আসার কথা বলে চলে যান। ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি ফিরে এসে মালামাল শনাক্তে বাদীর মেয়েকে তার সঙ্গে দিতে বলেন।
এদিকে বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় সরল বিশ্বাসে মেয়েকে তার সঙ্গে দিলে ওইদিন রাত পৌনে ১২টায় সুজন বাদীকে ফোন করে জানান, মিরপুর চিড়িয়াখানায় কে যেন তার মেয়েকে অ্যাসিড মেরেছে। সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। ওই ঘটনায় সুজন নিজে বাদী হয়ে রাজধানীর শাহ আলী থানায় একটি মামলাও দায়ের করেন।
মোছা. রিনা তার মেয়ের মুখে সব কথা শুনে সুজনের বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে দেখেন যে ওই ঘটনায় সুজন আগেই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর ঘটনার প্রায় এক মাস পর ২৪ অক্টোবর সুজনের নামে মামলা করেন রিনা। মামলা দায়েরের পর পাবনা থেকে সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক আছেন।
গ্রেপ্তারের পর সুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে ভিকটিমকে অ্যাসিড মারার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ভিকটিম নাসিমার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। নাসিমা বিভিন্নভাবে তাকে উত্ত্যক্ত করত। তার জন্য সুজনের স্ত্রীরও ডিভোর্স হয়ে যায়। প্রতিশোধ নিতেই তিনি এ কাজ করেন।
এদিকে মামলাটি তদন্ত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর রশিদ গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলাটির বিচারকাজ চলাকালে আদালত অভিযোগপত্রভুক্ত ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।