ঢাকাSaturday , 21 October 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টানা বর্ষণে অচল জনজীবন

Link Copied!

নিউজ ডেস্ক : নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় শুক্রবার কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে গোপালগঞ্জে ২৭১ মিলিমিটার।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ শনিবারও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বড় ধরনের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ১৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ৬টা থেকে আজ শনিবার ৬টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টায় কেবল বৃষ্টি হয়েছে ১৪৯ মিলিমিটার।
আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারে আজও ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া নৌবন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ এখন পর্যন্ত স্থল নিম্নচাপ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম এলাকা জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে এর প্রভাবে আজ সারা দিনই বৃষ্টি হবে। কোথাও থেমে থেমে কোথাও টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। আগামীকাল থেকে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনের সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগীয় শহর খুলনায় ১৬৩, বরিশালে ১৮৬, রাজশাহীতে ৯২, ময়মনসিংহে ১০০ চট্টগ্রামে ১০ ও সিলেটে ৮ ও রংপুরে ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত থেকেই পাটুরিয়া মাওয়াসহ বিভিন্ন নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) সহকারী মহাব্যবস্থাপক খালেদ নেওয়াজ জানিয়েছেন, রাত ১১টা থেকে এখন পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি নৌপথে ফেরি পারাপার বন্ধ রয়েছে। এসব নৌপথে সব ধরনের লঞ্চ চলাচলও বন্ধ। মাওয়ায় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথেও সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তবে সদরঘাট থেকে চাঁদপুর বরিশাল রুটে বড় লঞ্চগুলো ছাড়ছে। ৬৫ ফুটের নিচে লঞ্চগুলো ছাড়ছে না। সাগর উপকূলের নৌপথ হাতিয়া, রাঙ্গাবালীতে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সারা দেশে বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে কখনো গুঁড়িগুঁড়ি, কখনো ভারি বৃষ্টি, আবার কখনো দমকা হাওয়া বইছে। কার্তিকের এই রূপ প্রকৃতিপ্রেমীরা উপভোগ করলেও নগরবাসীর জন্য যেন এটা যন্ত্রণা। খোঁড়াখুঁড়ির নগরীতে বৃষ্টি দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের।
রাজধানীতে বৃষ্টিতে গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিললেও বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এ কারণে বেড়েছে ভোগান্তি। রাজধানী জুড়ে জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে পড়েছে। রাজধানী ঢাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে দেখা দেয় দুর্ভোগ। কোথাও কাদামাটি, আবার কোথাও হাঁটুপানি। চিরচেনা ঢাকা তখন রূপ নেয় এক ভিন্ন নগরীতে। লেগে যায় ভয়াবহ যানজট।
সাগরে নিম্নচাপের কারণে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বৃষ্টি হলেও ঢাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয় শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে। শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ, কমলাপুর, আরামবাগ, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক ও মগবাজার এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা যায়। একই অবস্থা মিরপুর, রোকেয়া সরণি, বাড্ডা, পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোড, বাসাবো, মাদারটেক, যাত্রাবাড়ী, ধনিয়া, গেণ্ডারিয়া, সূত্রাপুর, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট ও রায়েরবাজারসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকায়। এসব স্থানে জমে গেছে পানি।
শনিবার সরকারি অফিসগুলো বন্ধ থাকলেও এসব সড়কে যানজটের চিত্র ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীদের পাশাপাশি চালকরাও। সুপ্রভাত পরিবহনের চালক মোহাম্মদ কাশেম বলেন, ‘শান্তিনগর-মালিবাগ-মৌচাক-মগবাজার ও মালিবাগ রেলগেট সড়কের ভোগান্তি কমে না। বাধ্য হয়েই খিলগাঁও দিয়ে যাতায়াত করি। যাত্রীরাও অনেক সময় আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়।’
গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। শনিবার সকালে অফিস থাকায় সকাল ৬টায় বাসা থেকে রওনা হয়ে সাড়ে ৮টা নাগাদ কেবল টঙ্গী পর্যন্ত আসতে পারেন। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। আমার সকাল ৯টায় অফিস ছিল। অবস্থা এতটাই খারাপ যে, অফিসে যেতে যেতে হয়তো দুপুর ১টা বেজে যাবে।’