নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে জনপ্রতিনিধিদের মাসিক সম্মানী ভাতা অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদের মধ্যে আছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।
সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগ জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতার বিষয়ে প্রস্তাব করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রস্তাবনায় আজ মঙ্গলবার অনুমোদন দিয়েছেন। এখন থেকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাসিক সম্মানী পাবেন ৫৪ হাজার টাকা। জেলা পরিষদ সদস্যরা পাবেন ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৯ হাজার টাকা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের মাসিক সম্মানী ১৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৭ হাজার এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানে সম্মানী তিন হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে আট হাজার টাকা করা হয়েছে।
মাসিক সম্মানীর এই অনুমোদনে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধা। তিনি বলেন, ‘জেলা পরিষদকে শক্তিশালী করার যে উদ্যোগ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও এলজিআরডি মন্ত্রী নিয়েছেন এটি যেন সফল হয় এটাও আমাদের চাওয়া। নেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের যেভাবে সম্মানীত করলে এজন্য আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করছি।
জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের সম্মানী বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে এটি আমরা সন্তুষ্ট। তবে আমাদের প্রশাসনিক ক্ষমতার বিষয়টিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখার অনুরোধ করছি। এখন উপজেলায় কোনো উন্নয়ন কাজ করতে গেলে এমনকি আমাদের বেতন তুলতে গেলেও ইউএনওর স্বাক্ষর লাগে। এ বিষয়টি আমাদের জন্য অনেকটা অসম্মানের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকবো।’
এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মন্ডল বুলবুল বলেন, ‘আমাদের সম্মানী বাড়ানোর দাবি অনেক আগে থেকেই ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন শুনে ভালো লাগছে। এভাবে আমাদের অন্যান্য প্রয়োজনগুলোও দেখবেন বলে আশা করি।’
ফরিদপুর জেলা পরিষদ সদস্য শেখ শহীদুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আর্থিক দিক বিবেচনায় এটি হয়তো খুব বেশ নয়। তবে সরকার আমাদের যেভাবে সম্মান দিয়েছে এটা খুব বড় বিষয়। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ।’
একই জেলা পরিষদের অন্য একজন সদস্য মির্জা আহসানুজ্জামান আজাউল বলেন, ‘সম্মানী ভাতার বিষয়টি অনেক আগেই শুনেছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটি অনুমোদন দিয়েছেন জেনে ভালো লাগছে।’
ভাওয়াল গড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সরকার সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আগে আমরা পেতাম মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা। এই টাকা একজন চেয়ারম্যানের একদিনের খরচও না। বিষয়টি আমরা সম্মিলিতভাবে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে তুলে ধরেছিলাম। বলেছিলাম, ভাতা না দেয়া হোক আপত্তি নেই। কিন্তু ‘অসম্মানী ভাতা’ বন্ধ করা হোক। পরে আমাদেরকে চিঠি দিয়ে জানানো হয় যে, সম্মানী ভাতা বাড়িয়ে আট হাজার করা হয়েছে। একজন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’
এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘সম্মানী ভাতা আগে থেকেই চালু ছিল। সরকার এবার টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। এটা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। তবে এই সম্মানীর আর্থিক বিচার না করে মর্যাদার বিচার করলে সন্তোষজনক। তাছাড়া সব ধরনের সম্মানীই উৎসাহব্যঞ্জক।’

