নিজস্ব প্রতিবেদক : কবি ও কলামিষ্ট ফরহাদ মজহারকে বহনকারী বাসের যাত্রী নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটেছে। হানিফ পরিবহনের সংশ্লিষ্ট বাসের সিট প্লান থেকে যাত্রী সংখ্যা, নাম ও উঠার স্থান নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে ওই বাসের যাত্রী সংখ্যা নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দেয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হানিফ পরিবহনের ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৯৮০১ নম্বরের ২৭ আসনের সেই বাসটির সব টিকিট বিক্রি হয়েছিল। তবে যশোরের নওয়াপাড়ায় যখন ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করা হয় সেই সময় বাসে যাত্রী ছিলেন ১২ জন।
ফরহাদ মজহারের কাছে টিকিট বিক্রি করেছিলেন খুলনার শিববাড়ি মোড়ের হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার নাজমুল সাদাত সাদি। গফুর নামে ১৩০০ টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছিলেন তিনি। কাউন্টার ম্যানেজারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে যশোরের নওয়াপাড়া থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করা হয়।
হানিফ পরিবহনের ৫০৫ নম্বর সেই কোচের সুপারভাইজার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সেই বাসটি ছিল ২৭ আসনের। রাত সোয়া ৯টায় খুলনার রয়েল কাউন্টার থেকে বাসটি যখন ছাড়ে তখন ২৭ জন যাত্রীর একটি ‘সিট প্ল্যান’ তার হাতে দেওয়া হয়। রয়েল কাউন্টার থেকে বাসটিতে যাত্রী ওঠেন ছয় জন। শিববাড়ি কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠেন দুই জন। এই কাউন্টার থেকেই বাসে এসে বসেন ফরহাদ মজহার।
পরবর্তীতে নতুন রাস্তা এলাকা থেকে যাত্রী ওঠেন আরও দুই জন। যশোরের নওয়াপাড়া থেকে যোগ হন আরও দুই যাত্রী। এই ১২ জন যাত্রী নিয়ে আসার পথেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বাসটি থামাতে বলা হয়। প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পর পুলিশ ও র্যাব এসে বাস থেকে আই-৩ আসনের যাত্রী ফরহাদ মজহারকে নামিয়ে নিয়ে যায়।
সুপারভাইজার আরও জানান, বাসটিতে আরও ১৫ জন যাত্রী উঠেছেন পরে। বাকি ১৫ যাত্রী যশোর, মনিহার ও নিউমার্কেট এলাকা থেকে ওঠেন। তিনি যখন যাত্রীদের টিকিট চেক করছিলেন তখন ফরহাদ মজহার ঘুমিয়ে ছিলেন। তাকে ডেকে তুলে টিকেট দেখতে চান। এ সময় তিনি ব্যাগ থেকে একটি টিকিট বের করে দেখান।
বাসটিতে আই-ফোর আসনের যাত্রী ছিলেন ঢাকার একটি বায়িং হাউজে কর্মরত খুলনার দৌলতপুরের বাসিন্দা মো. বাপ্পী ।তিনি বলেন, ‘বাসে ওঠার পর দেখি পাশের আসনের যাত্রী ঘুমিয়ে আছেন। স্বল্প আলোর কারণে তাকে চিনতে পারিনি। তবে পুলিশ বাস থেকে নামিয়ে নেওয়ার সময় দেখি তিনি ফরহাদ মজহার!’
আই-ওয়ান আসনের যাত্রী কুষ্টিয়ার শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি খুলনার আবু নাসের হাসপাতালে এসেছিলেন। কাজ শেষে হানিফ পরিবহনে চড়ে ঢাকায় ফিরছিলেন। তিনি একই কাউন্টার থেকে বাসে ওঠার সময় ফরহাদ মজহারকে চিনতে পারেন।
ফরহাদ মজহারকে বহনকারী বাসের সুপারভাইজার হাফিজুর রহমান জানান, তাকে যখন প্রথম অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোন করে আই-৩ এর যাত্রীর বিষয়ে খোঁজ নেন, তখনই তিনি ওই যাত্রীর টিকিট কাটার সময় যে নম্বরটি দেওয়া হয়েছিল সেই নম্বরে ফোন করেছিলেন। কিন্তু নম্বরটি তখন বন্ধ পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই ভোর সোয়া ৫টার দিকে আদাবর রিং রোড এলাকার হক গার্ডেনের নিজ বাসা থেকে বের হন ফরহাদ মজহার। এরপর একটি সাদা মাইক্রোবাসে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। বিষয়টি তিনি স্ত্রী ফরিদা আখতারকে জানান। এরপর আরও কয়েকবার পরিবারের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে বিভিন্ন অংকের টাকা দেওয়ার কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে দিনভর দেশজুড়ে আলোচনা চলতে থাকে।
মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রযুক্তির সহায়তায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা জানতে পারে ফরহাদ মজহারকে গাবতলী, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, যশোর হয়ে খুলনার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুলনা থেকে ঢাকায় আসার পথে যশোরের নওয়াপাড়া এলাকায় হানিফ বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে।

