নিজস্ব প্রতিবেদক : বোর্ড গঠনের বিধান রেখে বীজ আইন-২০১৭ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে আইনে অপরাধের শাস্তি বাড়ানো হয়েছে। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় আইনটি উপস্থাপন করে। বৈঠকে আইনটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন আইনে ২৫ সদস্যের একটি জাতীয় বীজ বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে, জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব। বীজ উইংয়ের মহাপরিচালক থাকবেন বোর্ডের সদস্য সচিব। বোর্ডে দুজন কৃষক রাখার বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত কোম্পানির একজন লোকও থাকবেন সদস্য হিসেবে। প্রতি ছয় মাসে কমপক্ষে একটি মিটিং করতে হবে বোর্ডকে।
সচিব জানান, বীজের মান নিয়ন্ত্রণ করাই এ বোর্ড গঠনের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে, বিদেশি বীজের প্রয়োজনীয় মানদণ্ড নিশ্চিত করবে এ বোর্ড। বীজ আমদানি বা রপ্তানি করতে হলে বোর্ডের অনুমোদন নিতে হবে। শফিউল আলম বলেন, নতুন আইনে এখন থেকে বীজ ডিলারকে বোর্ডের অধীনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। লাইসেন্সও নিতে হবে এই বোর্ড থেকে। বীজের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় এ বোর্ড সরকারকে পরামর্শ দেবে।
আইনে শাস্তি বাড়ানোর কথা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বীজ পরিদর্শককে কাজে বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে অপরাধ বলে গণ্য হবে। এ অপরাধে এখন থেকে তিন মাসের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আগে প্রথমবার কেউ এই অপরাধ করলে কোনো জেল হতো না, শুধু ৫০০ টাকা জরিমানা করা হতো। দ্বিতীয়বার একই ধরনের অপরাধ করলে ৫০০ টাকা জরিমানাসহ এক মাসের জেল দেওয়া হতো।
নতুন আইনে বীজের গুণগত মানের ব্যত্যয় ঘটালে তথা নকল ও ভেজাল বীজ সরবরাহ করলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধে তিন মাসের জেল ও ৫০ হাজার টাকার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

