নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের তিন দিনের ছুটি শেষে খুলেছে অফিস আদালত। ঈদে জনস্রোত যেদিকে ছিল, ধীরে হলেও সেটা এখন উল্টো পথে। মানুষ ফিরে আসতে শুরু করেছে তাদের কর্মস্থলে। কিন্তু রাজধানীর সড়কগুলো সেই ছুটির দিনগুলোর মতই ফাঁকা।
তিন দিনের ঈদের ছুটির পর দুই দিন কর্মদিবস রয়েছে। এরপর আরও দুই দিন পাওয়া যাবে সাপ্তাহিক ছুটি। তাই যারা দুই দিন ছুটি নিতে পেরেছেন, তারা এবং তাদের পরিবার পরিজন এখনও স্বজনদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায়। এ কারণেই রাজধানীর এমন চিত্র।
রাজধানীতে যাত্রীর মত বাসের সংখ্যাও কম। এমনিতে কর্মদিবসে উপচে পড়া যাত্রী দেখা গেলেও আজকের পরিস্থিতি ভিন্ন। যাত্রীর জন্য চালকের সহকারীদের ডাকাডাকি করতে দেখা গেছে মোড়ে মোড়ে। তারপরও স্বাভাবিকের চেয়ে কম সময় লাগছে গন্তব্যে পৌঁছতে।
রামপুরা এলাকায় তুরাগ বাসের চালক রাশেদ খান মিলন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বলেন, ‘ঈদের দিন তার পরের দিনও যাত্রী ভালো আছিল। দুই হাজার টেকার উপরে লাভ হইসে, কিন্তু আইজকা এহন পর্যন্ত তিনশ টেকাও উডে নাই। তার উপরে গ্যাস শেষ, পাম্প বন্দ।’
স্বাভাবিক কর্মদিবসে যেসব মোড়ে দীর্ঘ সিগন্যালে পড়তে হয় অফিস যাওয়া মানুষদের, আজ বুধবার সকালে সেসব মোড়ে সিগন্যালে গাড়িকে দাঁড়াতে হয়নি বললেই চলে। যানবাহন কম বলে বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক পুলিশকে খোশ গল্পও করতে দেখা গেছে।
ঈদের তিন দিনের আগে শুক্র ও শনিবার-সব মিলিয়ে পাঁচ দিনের জন্য ব্যাংক বন্ধ থাকার পর প্রথম কার্যদিবসেও ভিড় নেই তেমন। নগরীর অন্যান্য এলাকার মতো দেশের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের ব্যাংকগুলোও সকালের দিকে ছিল ফাঁকা। ব্যাংকের সব কর্মীকেও দেখা যায়নি। কর্মকর্তারা জানান, ঈদের ছুটির সঙ্গে আরও দুই দিন অতিরিক্ত ছুটি নিয়েছেন অনেকেই। এর পরে আবার যোগ হবে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি। সব মিলিয়ে নয় দিনের ছুটি হয়েছে।
সোনালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম খান বলেন, ‘ঈদের পরে প্রথম অফিসে উপস্থিতি কম। সব ধরনের লেনদেনেই হচ্ছে, তবে সঞ্চয়পত্র কেনা-বেচায় একটু ভিড় আছে।’
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চের ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ব্রাঞ্চে দুই একজন ছাড়া ব্যাংকের সব কর্মীই উপস্থিত আছে। সকাল থেকেই লেনদেন হচ্ছে, তবে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় কম।’
জনতা ব্যাংকের রামপুরা শাখার ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সকালের দিকে গ্রাহকদের লাইন থাকলেও পরে ভিড় কমে যায়। হেল্প ডেস্কগুলোতে এখনও লোকজন রয়েছে। তবে ভিড় কম।’
পাঁচ দিনের বিরতির পর পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ায় ব্রোকারেজ হাউজগুলোও খুলেছে সকালে। সেগুলোতেও বিনিয়োগকারীদের স্বাভাবিক উপস্থিতি নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিও কম।
ঈদের আগের রাত পর্যন্ত ভীষণ ব্যস্ত বিপণিবিতানগুলোর বেশিরভাগই বন্ধ দেখা গেছে। তবে বসুন্ধরা শপিং মল এবং যমুনা শপিং মলে সিনেমা হল খোলা থাকায় সেগুলোর একটি করে ফটক খোলা রয়েছে। সকালের শোতে আজও দর্শক উপস্থিতি রয়েছে বেশ ভাল।
রাজধানীর পোশাক কারখানাগুলোর বেশিরভাগই এখনও বন্ধ। শ্রমিকরা কাজে ফেরেনি বলে উৎপাদন শুরু করা যায়নি। যে দুই একটি কারখানা খুলেছে, সেগুলোতেও উপস্থিতি খুবই কম বলে জানিয়েছেন পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর একজন কর্মকর্তা।
আদালত পাড়াতেও স্বাভাবিক ভিড় নেই। যাদের মামলার তারিখ পড়েছে, তারা ছাড়া বাড়তি লোকের উপস্থিতি সেখানে কম। এমনকি পণ্য বিক্রির জন্য হকারদের ঘোরাফেরাও নেই আশেপাশে।
নগরীর এই ফাঁকা চিত্রের মধ্যে ব্যস্ততা তুলনামূলক বেশি বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন এবং লঞ্চ ঘাটে। বিশেষ করে ভোর এবং প্রথম সকালের ট্রেনগুলোতে যাত্রীর চাপ ছিল। একইভাবে নাইট কোচ এবং ভোরের লঞ্চেও যাত্রী ছিল উল্লেখযোগ্য সংখ্যক। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুক্রবার এবং শনিবারের গাড়িতে থাকবে আসল ভিড়।
বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে মেরামতের জন্য গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিতও হওয়ায় রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু এই ঘোষণা সেভাবে প্রচান না হওয়ায় স্টেশনে গ্যাস নিতে এসে ফিরে যেতে দেখা গেছে অনেককে। তবে এই সংখ্যাও খুব একটা বেশি নয়। ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা বলছেন, এখনও মানুষ সেভাবে ফিরেনি শহরে। তাই সেভাবে ভোগান্তি হচ্ছে না এই সিদ্ধান্তে।
রামপুরা এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক নুরে আলম জানান, ২৪ ঘণ্টা স্টেশন বন্ধ থাকবে শুনে মঙ্গলবার রাতেই তিনি গ্যাস নিয়ে রেখেছেন। এমনিতে দিনে দুইবার গ্যাস নিতে হয় তার। সেই হিসাবে এতক্ষণে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রিপ কম বলে গ্যাস বেচে যাচ্ছে। তার ধারণা বিকাল পর্যন্ত চলে যাবে গত রাতের নেয়া গ্যাসে।

