নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ তিন জঙ্গির। ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে গ্রেনেড হামলায় আনোয়ার চৌধুরীসহ আরও অনেকে আহত হন।নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন।এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর মুফতি হান্নানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার পর পুলিশ বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। ২০০৭ সালের ৩১ জুলাই হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল, দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপন ও মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। পরবর্তীতে সম্পূরক চার্জশিটে জঙ্গি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সিলেটের বিচারিক আদালত ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর মুফতি আবদুল হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ও মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
আসামিরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলে গত ৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। এরপর তারা সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করলে সেটাও গত ২২ মার্চ খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।
আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর গত ২৭ মার্চ রাষ্ট্রপতির কাছে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন মুফতি হান্নানসহ তিনজন। গত ৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি তিন জঙ্গির প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দেন। এরপরই তিনজঙ্গির ফাঁসি কার্যকরে প্রস্তুতি নিতে থাকেন কারা কর্তৃপক্ষ।
২০০৪ সালের ২১মে সিলেটে আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলা ও ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে রমনার বটমূলে হামলার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় মুফতি হান্নানকে।তবে রমনা বটমূলে হামলা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হলেও আনোয়ার চৌধুরীর মামলায় তার ফাঁসি কার্যকর করা হলো। এ দু’টি মামলা ছাড়াও ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ আরও ১৫টি জঙ্গি হামলার মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।মুফতি হান্নানের আরেক সহযোগী শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলারও আসামি।

