নিজস্ব প্রতিবেদক : মন্ত্রিপরিষদে ধর্মীয় সম্পত্তি অধিগ্রহণের বিধান রেখে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম আইন, ২০১৭ পাশের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন থেকে প্রতিবাদ জানান সংগঠনের নেতারা।
মানববন্ধনে নেতারা বলেন, ‘সম্প্রতি সরকার ধর্মীয় উপাসনালয় অধিগ্রহণের আইন মন্ত্রিসভায় পাশ করেছে। এতে এদেশের হিন্দু সম্প্রদায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। আইন পাশের আগেই রমনা কালিমন্দিরের জায়গা দখল করে সরকার স্বাধীনতা স্তম্ভ তৈরি করেছে। সারা দেশে এরকম শত শত মন্দিরের জায়গা দখল হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায় শত চেষ্টা করেও সে সম্পত্তি ফেরত পায় না।’
এরপর নতুন আইন তৈরি করে নানা অজুহাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার কোটি টাকার ধর্মীয় সম্পত্তি অন্যায়-অবৈধভাবে দখল করে নেওয়া হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা।
সরকার ইতিমধ্যে পাঠ্যপুস্তক ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আলোকে করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে অভিযোগ করে তারা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তারা অভিযোগ করেন, প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও হিন্দু বাড়িঘর জমিদখল, ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে দেশত্যাগে বাধ্য করা, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ধর্মান্তরকরণ, মঠ-মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর ও কিশোরী অপহরণ চলছে। সরকার অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করে ও শাস্তি বিধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু সরকার অপরাধীর শাস্তি বিধান করে নাই।
গাজীপুর জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি শ্রী রঞ্জন গোস্বামীর প্রাণনাশের হুমকিদাতা আ. সামাদ গংকে আগামী সাত দিনের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
বক্তারা ধর্মীয় সম্পত্তি অধিগ্রহণের বিল প্রত্যাহার এবং পাঠ্যপুস্তক অসাম্প্রদায়িক করার দাবি জানান। হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায়ের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা ঝুমুর গাঙ্গুলী, সিনিয়র সহসভাপতি মানিক চন্দ্র সরকার, ড. সোনালী দাস প্রমুখ।

