নিজস্ব প্রতিবেদক : গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, মসজিদের ঈমামদের কাজ হচ্ছে মুসল্লিদের নামাজ পড়ানো। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয়া। তিনি এমন কোনো বয়ান দেবেন না, যা দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি।
আদালত বলেন, যদি কেউ ইসলাম ধর্ম এবং হযরত মুহম্মদ (সা.) অথবা যেকোনো ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন তাহলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার অধিকার কারো নেই।
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন। হাইকোর্ট রায়ে বিচারিক আদালত যে রায় দিয়েছিলেন তা হুবহু বহাল রাখেন।
পর্যাবেক্ষণে আদালত বলেন, শরীয়াহ আইন আমাদের দেশে প্রচলিত কি না সে বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে।
মামলার আসামিদের বিষয়ে আদালত বলেন, এই মামলার আসামি মুফতি জসিমউদ্দিন ছাড়া বাকী সবাই মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা কেন এই পথে এসেছে এই মামলায় তা বোধগম্য নয়। এই ধরনের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিপথে যাওয়ার জন্য অভিভাবকরাই দায়ী বলে অনেকে মনে করেন। আমরা অনেকটা তাই মনে করি। এই মামলার আসামিদের সকলের পিতা-মাতা উচ্চ শিক্ষিত। আমরা নিজেদের লাইফ স্টাইল কীভাবে উন্নত করা যায় সেটা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আমাদের বাচ্চাদের মানসিক অবস্থার কথা, তারা কী করতে চায়, কোন বিষয়ে পড়তে চায়, তা না জেনে তার মনের বিরুদ্ধে অনেক কিছু চাপিয়ে দেন। এই কাজের জন্য প্রাইমারি শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পলন করতে হবে। পরিবেশ, রাজনীতি, ধর্মীয় আচার ব্যবহার, স্বাধীনতার ইতিহাস যথাযথভাবে শিশুদের শিক্ষা দিতে হবে। এ নিয়ে সবার এবং সরকারেরও ভাবতে হবে।
মামলা তদন্ত ও সাক্ষ্য গ্রহণ বিষয়ে পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, মুফতি যেখানে খুৎবা দিতেন সেখানকার মুসল্লিদের প্রসিকিউশনের আওতায় আনা হয়নি। আইজিপিকে আহবান জানাচ্ছি, সব ধরনের মামলায় এমন সব কর্মকর্তাদের নিয়োজিত করতে হবে যারা শুধু নিজের না, দেশের জন্য কাজ করবে।
এই হত্যাকাণ্ড পূর্ব পরিকল্পিত, একদল লোক হত্যাকাণ্ডে সরসারি অংশগ্রহণ করেছে। অন্যরা তথ্য সংগ্রহ করেছে। তাই বিচারিক আদালতের রায় পরিবর্তনের কারণ খুঁজে পাইনি। সেই জন্য বিচারিক আদালতের রায়ই বহাল রাখছি।

