ঢাকাTuesday , 21 February 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আজ অমর একুশে

Link Copied!

minarনিজস্ব প্রতিবেদক : ‘মায়ের ভাষার জন্য বিরল রক্তস্রোত। রাজপথ ভেসে গিয়েছিল তরুণ তাজা খুনে। তোমার কোলে তোমার বোলে কতই শান্তি ভালবাসা…।’ মায়ের মুখের সেই বুলি আর ভালোবাসা আক্রান্ত যখন, তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিল বাঙালি। ঘাতকের ছিল বুলেট। বুকে তা লেগেছিল বটে। বাপ-দাদার ভাষাকে বিদ্ধ করতে পারেনি। গরিমার সবটুকু নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে আমরি বাংলা ভাষা। বাংলা রাষ্ট্রভাষার সম্মান পেয়েছে।
বছর ঘুরে আবারও এসেছে ভাই হারানোর ব্যথা আর মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার গৌরবে অত্যুজ্জ্বল সেই দিন। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি। মহান ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি পূরণের ৬৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে এই দিনে।
জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার পর থেকে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দিবসটি পালিত হচ্ছে।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালীর প্রথম প্রতিরোধ এবং জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে দুর্বার আন্দোলনে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকের রক্তের বিনিময়ে বাঙালী জাতি পায় মাতৃভাষার মর্যাদা। রাষ্ট্রভাষার লড়াইয়ে সে দিন রাজপথ রঞ্জিত হয় ভাইয়ের রক্তে।
ভাষার অধিকারের পক্ষে লড়ার পাশাপাশি, ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন শোষণের বিরুদ্ধে একুশ ছিল বাঙালীর প্রথম প্রতিরোধ। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালী জাতিসত্তার যে স্ফুরণ ঘটেছিল তা-ই পরবর্তীতে বাঙালীর জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক প্রেরণা যোগায়।
অমর একুশে নিয়ে কবি ও গীতিকার মাহবুবুল এ খালিদ-এর লেখা ও আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুর করা মনোমুগ্ধকর একটি গান শুনুন এই লিংকে।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন।
একুশ মানে যে মাথা নত না করা! আর তাই শুধু শোক নয়। সহ্য করে যাওয়া নয়। সকল অন্যায় অশুভ অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানে আজ মঙ্গলবার সারাদেশে পালিত হবে অমর একুশে। সমাজের সকল অন্যায় অসাম্য ধর্মান্ধতা সাম্প্রায়িকতার বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠার নতুন শপথ নেবে বাঙালী। গীতিকবির ভাষায়- ‘স্বাধীন এই বাংলা আমার/ কোটি প্রাণ শহীদ মিনার/ নেবই নেব, নেবই নেব/ নেবই নেব আমরা মনের মতো এই দেশ গড়ে…।’
একুশের প্রথম প্রহর থেকে শুরু হয়ে গেছে নানা আনুষ্ঠানিকতা। জাতি কৃতজ্ঞ চিত্তে ভাষা শহীদদের স্মরণ করছে। সকলের কণ্ঠে একই শোকসঙ্গীত- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুরুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি…। ভাষা শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদও ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
এবার মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বোর্গ ব্রেন্ডের উপস্থিতি। একুশের প্রথম প্রহরে নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সকালে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ ফুল দিয়ে ভাষার প্রতি নিজেদের ভালবাসার কথা জানাবে। নগ্নপায়ে অংশ নেবে প্রভাতফেরিতে। আজ শহীদদের স্মরণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। একই সঙ্গে সর্বত্র ওড়ানো হবে শোকের কালো পতাকা।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে দেশের সরকারী-বেসরকারী টেলিভিশন, রেডিও এবং কমিউনিটি রেডিও ব্যাপক অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দ্বীপগুলো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বর্ণমালা সংবলিত ফেস্টুন দিয়ে সজ্জিত করা হবে।
সকল জেলা ও উপজেলা সদরে দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচীর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত মিশনগুলোতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথভাবে উদযাপিত হবে। বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করবে সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।
সকাল সাড়ে ১০টায় সেগুনবাগিচার নিজস্ব কার্যালয়ে একুশের অনুষ্ঠান আয়োজন করবে কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা। সভাপতিত্ব করবেন মেলার পরিচালক খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করবে ছোট বড় প্রায় সব সংগঠন। এভাবে নানা আয়োজনে সারা দেশেই স্মরণ করা হবে ভাষা শহীদদের। জানানো হবে বিনম্র শ্রদ্ধা।