ঢাকাTuesday , 10 January 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সমগ্র দেশই হবে উন্নত সমৃদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

Link Copied!

hasina1নিজস্ব প্রতিবেদক : সমগ্র দেশই হবে উন্নত, সমৃদ্ধ, সোনার বাংলাদেশ- এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবোই।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে মঙ্গলবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানে আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে যে রূপরেখা দিয়েছিলেন, বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন, আমরা বাংলাদেশকে ইনশাল্লাহ ঠিক সেভাবেই উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের কোনো স্থান হবে না- প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেশের সব শ্রেণিপেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, সৌহার্দ্যের ধর্ম, ভ্রাতৃত্বের ধর্ম উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইসলাম কখনো মানুষ হত্যা শিখায় না। আমাদের বিচার করবেন আল্লাহ। আল্লাহর হাতেই শেষ বিচার। ইসলামে আত্মহত্যা মহাপাপ। অথচ আজকে যারা ধর্মের নামে সন্ত্রাস করছে, অথবা আত্মঘাতী হচ্ছে, যারা মনে করে আত্মঘাতী হয়ে একেবারে বেহেশতে চলে যাবেন- তারা কখনো বেহেশতে যাবে না। বরং তারা দোজখে যাবে। কারণ ইসলাম কখনো আত্মঘাতী বা সন্ত্রাস বা মানুষ খুন করাকে প্রশ্রয় দেয় না।’
‘এদেশের সব মানুষ ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ম পালন করবে। এটাই হচ্ছে আমাদের ইসলামের শিক্ষা’- বলেন শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের দলীয় লক্ষ্য খুব স্পষ্ট উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তিনি স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। এই বাংলাদেশকে আমরা উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী অারো বলেন, ‘আন্দোলনের নামে মানুষ খুন, অগ্নিসংযোগ এবং তাণ্ডব চালানোর অপরাধে বিএনপি ও তার দোসরদের একদিন গণআদালতে বিচার হবে।’
জনসভায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মানুষ হত্যা করে, যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানায়, তাদের হাতে-মুখে গণতন্ত্র সুরক্ষার কথা মানায় না। তারা জঙ্গি, তারা সন্ত্রাসী। বাংলার মানুষ তাদের বিচার করবে। গণআদালতে একদিন এদের বিচার হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এতিমের টাকা মেরে খেয়ে খালেদা জিয়া এখন দুর্নীতির মামলায় হাজিরা দিচ্ছেন। মামলায় আদালতে নিয়মিত হাজিরা না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তার কাছ থেকে আমাদের রাজনীতি শিখতে হবে বা গণতন্ত্র শিখতে হবে, এটা দেশের মানুষ কোনোদিন মেনে নেবে না।’
‘বিএনপি-জামায়াতের ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর নামে আন্দোলনে নেমে মানুষ হত্যা শুরু করলেন ২০১৩ তে। ২০১৪ তে আবার আন্দোলনের নামে ৫৮২টি স্কুল পোড়ালেন, প্রিসাইডিং অফিসারদের হত্যা করলেন। এসব হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে নির্বাচন ঠেকাতে পারলেন না। ২০১৫ সালে আবার বাসা থেকে অফিসে এসে আন্দোলনের নামে তাণ্ডব শুরু করলেন খালেদা জিয়া। সরকার উৎখাতের নামে ২৩১ জন মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছিল, হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে, ২৯টি রেলগাড়ি এবং ৯টি লঞ্চে আগুন দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২৩ সদস্যকে হত্যা করে, শত শত কোরান শরিফ পোড়ায় বায়তুল মোকাররমের সামনে’ বলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো। পাশাপাশি সুবর্ণজয়ন্তী পালনের লক্ষ্যে দারিদ্র্যের হার কমানো, স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি করাসহ প্রত্যেক ছেলে-মেয়ে শিক্ষিত হবে। মানুষ খাদ্য নিরাপত্তা পাবে।
‘একই সঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সবকিছু যাতে চলতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে’- বলেন শেখ হাসিনা।
তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটি গ্রামই একটি নগর হিসেবে গড়ে উঠবে। গ্রামের মানুষ উন্নত জীবন পাবে। সেটাও আমরা নিশ্চিত করবো।
জনসভায় বঙ্গবন্ধুর পাকিস্তানের কারাগার থেকে জনগণের মাঝে ফিরে আসার বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করে জাতির পিতা, জাতীয় চার নেতাসহ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন- সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সুজিত রায় নন্দী, আবুল হাসনাত, শাহে আলম মুরাদ, সাদেক খান, আনিসুল হক, সাঈদ খোকন, ওমর ফারুক চৌধুরী, মোল্লা মো. আবু কাওছার, সিরাজুল ইসলাম, নাজমা আক্তার, মোতাহার হোসেন মোল্লা, এস এম জাকির হোসাইন।
আওয়ামীর লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাগত বক্তব্য রাখেন। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন ড. হাছান মাহমুদ ও আমিনুল ইসলাম আমিন।