নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। পাকিস্তানে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এই দিনে দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি পাকিস্তান থেকে লন্ডনে যান এবং তারপর দিল্লি হয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ দিবস উদযাপন করবে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারা দেশে সংগঠনের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। দুপুর আড়াইটায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের জন্য আওয়ামী লীগ এবং এর সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
১৯৭২ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে সগৌরবে ফিরে আসেন। ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীর বিমানে তিনি প্রিয় মাতৃভূমিতে অবতরণ করেন। তেজগাঁও বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুর পদার্পণের সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন ও আনন্দমুখর দৃশ্য। বিমানবন্দর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সভামঞ্চ পর্যন্ত ছিল মানুষের ঢল। সেদিন তিনি এই সমাবেশে খুবই হৃদয়স্পর্শী ও উদ্দীপনামূলক বক্তব্য দেন।
৭ মার্চ ১৯৭১ সালে এখানে দাঁড়িয়েই তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়াছিলেন।
দীর্ঘ নয় মাস ধরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের কারাপ্রকোষ্ঠে অন্তরীণ অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর জীবননাশের উপক্রম হয়েছিল। প্রহসনমূলক বিচারের রায় অনুযায়ী তার ফাঁসি নিশ্চিত করার জন্য কবরও খনন করা হয়েছিল। এই সময় তিনি বীরের মতো বলেছিলেন, ‘আমার লাশটা বাংলার মানুষের কাছে পাঠিয়ে দিয়ো’। কোনো প্রলোভন ও ভয়-ভীতিই তাকে বাঙালির জনদাবি ও গণতান্ত্রিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। তার দৃঢ়তার কারণে পাকিস্তানের নতুন প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জুলফিকার আলী ভুট্টোর কনফেডারেশনের স্বপ্নও ধূলিস্যাৎ হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কারাবন্দি বঙ্গবন্ধু ছিলেন অধিক প্রভাবশালী ও অনুপ্রেরণার উৎস। পৃথিবীতে এমন ঘটনা বিরল, জননেতা ১ হাজার ১০০ মাইল দূরে কারাগারে অবস্থান করলেও তার নেতৃত্বেই দেশ স্বাধীন হয়েছে।

