নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার বঙ্গভবনে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলামান সংলাপে জাতীয় পার্টির (জেপি) সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এসব বলেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, সংলাপে জেপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে ধাপে ধাপে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বৈঠকে জেপি চেয়ারম্যান, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু রাষ্ট্রপতিকে বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনই যথেষ্ট নয়। এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য দরকার।
জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবের আলোক শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, জেপির পক্ষ থেকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য নির্বাচনের সময় স্থানীয়দের নির্বাচনী দায়িত্ব না দিয়ে নির্বাচনী এলাকার বাইরে থেকে নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগের প্রস্তাব দেন।
সংলাপ শেষে বঙ্গভবনের সামনে জাতীয় পার্টি (জেপি) আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ইসি পুনর্গঠন ও ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ গঠন নিশ্চিতের প্রস্তাব দিয়েছে জেপি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে দলের পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ এবং ভোটের দিনের মানুষ যেন নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে এসে স্বাধীনভাবে ভোট দিয়ে আবার নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে, সে রকম পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি দেশের অভিভাবক। তিনি এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবেন তাকে স্বাগত জানাবে জেপি।
জেপি চেয়ারম্যান, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে যায়। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক হয়। এ সময় সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ, নাজমুন নাহার বেবী, আবদুর রহিম, মফিজুল হক বেবু, শাহ রফিকুল বারী চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম সরকার পিন্টু, এজাজ আহমেদ মুক্তা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

