ঢাকাFriday , 30 December 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিমানে ত্রুটি : সাত আসামি ফের ৮ দিনের রিমান্ডে

Link Copied!

courtনিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে মানবসৃষ্ট ত্রুটির ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশ বিমানের সাত কর্মকর্তার ফের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম ওয়ায়েজ কুরুনী খান চৌধুরী রিমান্ডের আদেশ দেন।
যাদের রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে তারা হলেন- বাংলাদেশ বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রোডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স) এস এ সিদ্দিক, প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস ও জাকির হোসাইন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক মাহবুবুল আলম আসামিদের পুনরায় ১০ দিনের রিমান্ড চেযে আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয় , আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে ষড়যন্ত্র করে বিমানে ইচ্ছাকৃতভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। গ্রেপ্তার করা আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন এবং একে অপরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। আসামিদের প্রদত্ত তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি। এটা বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রের মামলা। মামলার তদন্তের স্বার্থে ও আসামিদের প্রদত্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
মামলার রহস্য উদঘাটন, ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করা, আসামিদের প্রদত্ত তথ্য যাচাই ও মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের পুনরায় ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আব্দুল্লাহ আবু এবং তাপস কুমার পাল বলেন, মামলাটা যেনতেন মামলা নয়, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার মামলা। আসামিরা সেদিন বিমানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। বিমানের নাট ঢিলা হলো, কেন হলো, নিশ্চয়ই এর একটা কারণ রয়েছে। আসামিরা সাত দিনের রিমান্ডে ছিলেন। তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত কি না তা জানার জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এজন্য তাদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক। আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের শুনানি করেন।
আসামি দেবেশ চৌধুরীর পক্ষে দাবি করা হয় যে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গীই ছিলেন। ওই ঘটনায় তিনি সম্পৃক্ত থাকলে তিনি সফর সঙ্গী হতেন না। অপর আসামিদের পক্ষেও রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। যারা প্রকৃত দোষী তারা যেন বের হয়ে আসে, আমরা সেটাই চাই। কিন্তু নিরাপরাধীরা যেন ফেঁসে না যায়।
উভয়পক্ষে শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেকের জামিন নামঞ্জুর করেন। এর তিনি বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এজন্য প্রত্যেক আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হলো। এরপর পুনর্বিবেচনা করে বিচারক প্রত্যেকের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ২২ ডিসেম্বর এ আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
একই ঘটনায় ২২ ডিসেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান ও টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগার পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর গত ২৮ ডিসেম্বর এ দুই আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তাদের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে (বোয়িং-৭৭৭) যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এ কারণে তুর্কমেনিস্তানে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি। অন্য একটি উড়োজাহাজ পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের হাঙ্গেরি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হলেও পরে ত্রুটি সারিয়ে ওই উড়োজাহাজেই হাঙ্গেরি যান প্রধানমন্ত্রী। ওই ঘটনায় দুই দফায় নয়জনকে বহিষ্কার করা হয়।
ওই ঘটনায় গত ২০ডিসেম্বর রাতে বিমানের ৯ কর্মকর্তাকে আসামি করে বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) এম এম আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করেন। দণ্ডবিধির ১০৯, ১১৮, ১২০ (খ), ২৮৭ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারায় মামলাটি করা হয়।