নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন আপৎকালীন সহায়তা দিতে ‘শ্রমিক কল্যাণ তহবিল’ গঠন করা হয়। বর্তমানে এ তহবিলে ১৮০ কোটি ৫০ লাখ ৬৪ হাজার ৩০৩ টাকা জমা হয়েছে। প্রতিবছরই বাড়ছে তহবিলের আকার।
দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন আপৎকালীন সহায়তা দিতে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন ২০০৬ সালের ১ অক্টোবর অসুস্থ কিংবা দুর্ঘটনায় আহত কিংবা নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দিতে ‘শ্রমিক কল্যাণ তহবিল’ গঠন করে।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন, ২০০৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়। আইনটি সংশোধনপূর্বক বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) আইনটি ২০১৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেন, ‘দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন আপৎকালীন সহায়তা দিতে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে অসুস্থ কিংবা দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়। দেশি-বহুজাতিকসহ (মাল্টিন্যাশনাল) কোম্পানি এ তহবিলে সহায়তা প্রদান করে।’
বর্তমানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (শ্রম) ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফাউন্ডেশনের ২০ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিচালনা বোর্ড রয়েছে। পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী, ভাইস চেয়ারম্যান সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। শ্রমিক ও মালিকপক্ষের পাঁচজন করে প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাতজন যুগ্ম সচিব এ বোর্ডের সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিক ও তার পরিবারের কল্যাণ সাধন, অসুস্থ ও অক্ষম বা অসমর্থ শ্রমিকদের আর্থিক সাহায্য প্রদান, দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকের পরিবারকে সাহায্য প্রদান, শ্রমিকদের জীবনবিমাকরণের জন্য যৌথ বিমা ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং শ্রমিকের পরিবারের মেধাবী সদস্যকে শিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদান করে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল।
শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনস, রানা প্লাজাসহ দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক পরিবারকে এক লাখ টাকা ও আহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় নিহত, আহত ও অসুস্থ শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদেরকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি দেশি-বহুজাতিক (মাল্টিন্যাশনাল) কোম্পানি এ তহবিলে সহায়তা প্রদান করে।
এদিকে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিকের দুটি সংগঠন ও মোটরযান মেকানিক ফেডারেশনের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি গ্রুপ বিমা স্কিম চালু করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৮৪৪ জন সদস্যকে গ্রুপ বিমা স্কিমের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। এ বিমা স্কিমের বিমাকৃত অর্থের পরিমাণ দুই লাখ টাকা। উক্ত বিমার বার্ষিক প্রিমিয়ামের পরিমাণ ১ হাজার ৩০০ টাকা। এর মধ্যে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন ৮৫ টাকা ও প্রতি শ্রমিক ৪৫০ টাকা পরিশোধ করছেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় সূচিত এ বিমা কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে এ কর্মসূচি সব সেক্টরের শ্রমিকদের মাঝে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। যার মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সম্পর্ক নিবিড়তর হবে।
এদিকে, গত ২০ এপ্রিল দেশের স্বনামধন্য ইলেকট্রনিকস, ইলেকট্রিক্যাল, অটোমোবাইল ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলে ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা প্রদান করেছে। সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকের হাতে ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (এইচআরএম) এস এম জাহিদ হাসান এ চেক হস্তান্তর করেন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে মোবাইল কোম্পানি রবি আজিয়াটা লিমিটেড ও হেইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড সাড়ে ৩ কোটি টাকা প্রদান করেছে। রবি আজিয়াটা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের লভ্যাংশের ৫ শতাংশের ১০ ভাগের ১ ভাগ বা ২ কোটি ৫০ লাখ ২১ হাজার ৩৬৫ টাকা শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে প্রদান করেছে। আর হেইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ ৯৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকার চেক শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে প্রদান করেছে।
দেশি-বহুজাতিক (মাল্টিন্যাশনাল) ৭১টি কোম্পানি এ তহবিলে অর্থ প্রদান করেছে। বর্তমানে এ তহবিলে ১৮০ কোটি ৫০ লাখ ৬৪ হাজার ৩০৩ টাকা জমা হয়েছে। গত বছর এ তহবিলে অর্থের পরিমাণ ছিল ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ৬৪ হাজার ৩০৩ টাকা।

