আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আম্মা নামে নন্দিত ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম জয়ললিতার মৃত্যুতে সাত দিন শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তিন দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মাতম চলছে তামিলনাড়ুজুড়ে।
স্থানীয় সময় সোমবার মধ্যরাতে মৃত ঘোষণা করা হয় ‘লৌহমানবী’ জয়ললিতাকে (৬৮)। ২২ সেপ্টেম্বরে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি এবং তবে সুস্থ হয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না তারা। কোটি মানুষের প্রাণের অভিনেত্রী-নেত্রী আম্মা চলে গেলেন সবাইকে কাঁদিয়ে। বিগত ৩০ বছরের মধ্যে তিনিই দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী, যিনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় স্বাভাবিক কারণে মারা গেলেন। এর আগে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মোহাম্মদ সাইদ দায়িত্ব পালনকালে মারা যান।
জয়ললিতার মৃত্যুতে ভারপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী পানেরসেলবাম পূর্ণাঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। দলীয় আইনপ্রণেতারা এ নিয়ে বৈঠক করছেন। হয়তো দ্রুতই শপথ নেবেন তিনি।
২২ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তির পর তার শরীরের একাধিক রোগ শনাক্ত হয়। তবে চিকিৎসায় তার সুস্থ হয়ে ওঠা দ্রুত চোখে পড়ে। সম্প্রতি তিনি হাসিখুশি কথাও বলছিলেন। কিন্তু রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ তিনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। এর পরের কয়েক ঘণ্টা টানটান উত্তেজনায় কাটে তামিলনাড়ুর মানুষের।
ব্যক্তি হিসেবে জয়ললিতা এতটাই জনপ্রিয়, তাকে দেবীর মতো ভক্তি করে অধিকাংশ তামিল। বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা এই মহীয়সী নারী মানুষের মনের মধ্যে শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত হন। সন্তান না থাকলেও জয়ললিতা হয়ে ওঠেন কোটি তামিলের আম্মা।
সোমবার সন্ধ্যায় জয়ললিতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শোকাহত নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। তারা হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে শোকার্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এরপর আম্মার মৃত্যুতে দেওয়া বিবৃতি পরিবর্তন করে বলা হয়, তিনি লাইফ সাপোর্টে আছেন। তবে টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন গণমাধ্যমে বিতর্কের ঝড় ওঠে। অবশেষে স্থানীয় সময় সোমবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করে রাজ্য সরকার ও তার দল এআইএডিএমকে।

