নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডির) সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শেখ তাজুল ইসলামসহ চার প্রকৌশলীর অর্থ আত্মসাত ও বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
পৃথকভাবে দায়ের করা ওই অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই শেষে সম্প্রতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
তাজুল ইসলাম ছাড়া অন্যান্য প্রকৌশলীরা হলেন- মাগুরা জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী হাসানুর রহমান, বগুড়ার সারিয়াকান্দি এলজিইডি অফিসের উপজেলা প্রকৌশলী শাহ. মো. শহিদুল ইসলাম ও মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার কামরুজ্জামান সরকার।
অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্র জানায়, এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শেখ তাজুল ইসলাম তুহিনের বিরুদ্ধে রিলায়েন্স ট্রেড অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেডে কোটি কোটি টাকার অর্থ যোগান দেন। একই সঙ্গে সাড়ে ৭ কাঠা জমির ওপর বিলাস বহুল অ্যাপার্টমেন্ট ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। তিন পৃষ্ঠার এমন অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে কমিশন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. শফিউল আলমকে অনুসন্ধানের জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে মাগুরা জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী হাসানুর রহমানের বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালককে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি এলজিইডি অফিসের উপজেলা প্রকৌশলী শাহ. মো. শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের এডিপি খাতে ৩৬ লাখ টাকার যথাযথভাবে কাজ না করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। গত জুলাই মাসে দুদকের জমা দেওয়া এমন অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালককে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার কামরুজ্জামান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য সিলেটের বিভাগীয় কার্যালয়ের দুদক পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। গত ৩১ আগস্ট তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে জমা হয়। যা চলতি সপ্তাহে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট বিভাগী কার্যালয়ের পরিচালকদের অনুসন্ধান কাজ তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও দুদক সূত্র জানায়।

