আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় পুঁজিবাদকে চ্যালেঞ্জ করে অর্ধশতাব্দী ধরে সাম্যবাদী সমাজের নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়া কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার বিপ্লবী জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিশ্বনেতারা।
সমাজতন্ত্র বা গণতন্ত্র ফিলেদ কাস্ত্রোর ঐতিহাসিক জীবনাবসান নিয়ে বিশ্বনেতারা শোক জানিয়েছেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন : সাবেক সোভিয়েত ইউয়নের অকৃত্রিম বন্ধু ফিলেদের মহাপ্রয়াণে কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর কাছে এক শোক বার্তা পাঠিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
শোক বার্তায় পুতিন বলেছেন, ‘এই প্রসিদ্ধ রাষ্ট্রনায়কের নাম সর্বকালের বিশ্ব ইতিহাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচ্য।’ তিনি আরো বলেন, ‘তিনি ও তার সহযোগীরা মিলে যে মুক্ত ও স্বাধীন কিউবা গড়ে তুলেছেন, যা বিশ্ব সম্প্রদায়ের এক প্রভাবশালী সদস্য এবং অনেক দেশ ও মানুষের কাছে উৎসাহব্যঞ্জক উদাহরণ। … তার স্মৃতি রাশিয়ার হৃদয়ে সব সময়ই বেঁচে থাকবে।’
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো : মেক্সিকো থেকে জাহাজযোগে কিউবায় বিপ্লবী যাত্রার সেই সময়কে স্মরণ করে প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেছেন, ‘মেক্সিকো থেকে গ্রানমার পাল তোলার ৬০ বছর পর আজ ফিদেল তাদের মতো অমরতার উদ্দেশে পাল তুলেছেন, যারা আজীবন… বিজয়ের পথে ও সবসময় লড়াই করেছেন।’
উল্লেখ্য, মেক্সিকো থেকে কিউবার উদ্দেশে গ্রানমা নামের জাহাজ নিয়ে রওনা দেন ফিদেল কাস্ত্রো ও তার সহযোগীরা। তারা তৎকালীন কিউবার একনায়ক বাতিস্তার বিরুদ্ধে আক্রমণ করেন। ফিদেল কাস্ত্রোর অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন মাদুরোর পূর্বসূরি হুগো চাভেজ।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ : কিউবার বিপ্লবকে ফিদেল কাস্ত্রো ‘আশা’ ও সবশেষ ‘হতাশার’ মধ্য দিয়ে নিয়ে গেছেন বলে উল্লেখ করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ। তিনি আরো বলেন, ‘স্নায়ুযুদ্ধের একজন কুশীলব হিসেবে… বহির্বিশ্বের আধিপত্য প্রত্যাখ্যান করে তিনি কিউবানদের গর্ব হয়ে ওঠেন।’ ১৮৯৮ সালের পর ২০১৫ সালে প্রথম কোনো ফরাসি প্রেসিডেন্ট কিউবা সফরে যান। সে সময় তিনি ফিদেল ও রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে দেখা করেন। এ বছরের শুরুতে রাউল কাস্ত্রো ফ্রান্স সফরে আসেন।
লন্ডনের প্রাক্তন মেয়র লিভিংস্টন : লন্ডনের প্রাক্তন মেয়র কেন লিভিংস্টন ফিদেলকে ‘২০ শতকের মহীরূহ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফিদেলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার হরণের বিষয়টি লিভিংস্টন পাত্তা দেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা : কিউবার সার্বভৌমত্ব ও স্বশাসনের অধিকারের জন্য ফিদেল কাস্ত্রো তার জীবন উৎসর্গ করেছেন। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের নির্যাতিত মানুষের মুক্তির জন্য তিনি কাজ করেছেন। তিনি আরো বলেন, কাস্ত্রো আমাদের বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন। মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার বন্ধু ছিলেন ফিলেদ এবং বর্ণবাদবিরোধী লড়াইয়ে ম্যান্ডেলার সঙ্গে ছিলেন।
সাবেক সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্ভাচেভ : আমি সত্যিই খুব মর্মাহত এই ভেবে যে, ফিদেলের সময় শেষ। একজন বিদগ্ধ রাজনীতিক ও ব্যক্তি হিসেবে এবং আমাদের বন্ধু হিসেবে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি আরো বলেন, ২০ শতকে উপনিবেশিক ব্যবস্থা ধ্বংস করতে তিনি সব কিছু করেছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ বিশ্বের আরো অনেক নেতা ফিদেলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

