নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সোমবার। দুর্নীতি দমনে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এদিন ১৩তম বছরে পা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।
দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত ঠিক সেই সময়ে সাধারণ মানুষ, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্টদের দাবির মুখে ‘বাংলাদেশ ব্যুরো অব এন্টি করাপশন’বিলুপ্ত করে ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদকের যাত্রা শুরু হয়।
এক যুগের দীর্ঘ এ পথ চলায় দুদক বহু ঘটনার জন্ম দেয়। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক, ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার, অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের ট্রুথ কমিশনে প্রেরণসহ বেশকিছু উদ্যোগ মানুষের মনে আশার সঞ্চার করে।
হলমার্ক কেলেংকারি, ডেসটিনির প্রতারণা, বেসিক ব্যাংকের ২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ, সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে মামলাও আলোচনার জন্ম দেয়। পাশাপাশি প্রথমে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পরে ‘নির্দোষ’ হিসেবে প্রভাবশালীদের দায়মুক্তি, অনুসন্ধান-তদন্তের নামে হয়রানি, রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দু্র্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের এই সংগ্রাম চলবে। এটা চলমান প্রক্রিয়া। এটা এক যুগ বা দুই যুগের বিষয় নয়। শুধু দুদকের একার পক্ষে এক যুগ কিংবা ১০ যুগেও দুর্নীতি দূর করা সম্ভব নয়। দুর্নীতি দূর করতে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা দরকার।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দুদক হুঁশিয়ারি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামি প্রজন্মকে দুর্নীতির বিষয়ে সচেতন করা। এজন্য আমরা দুর্নীতি প্রতিরোধের ওপর বেশি জোর দিচ্ছি।
প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ৩ বছর প্রতিষ্ঠানটি ছিল অকার্যকর। এ সময় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুলতান হোসেন খান। তার মেয়াদ ৪ বছর পূরণের আগেই সাবেক সেনাপ্রধান লে. জে. হাসান মশহুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে কমিশন পুনর্গঠন করা হয়। ওয়ান-ইলেভেনে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত হাসান মশহুদ চৌধুরীও মেয়াদের আগেই বিদায় নেন। এরপর প্রাক্তন সচিব গোলাম রহমানের নেতৃত্বে তৃতীয়বারের মতো পুনর্গঠন হয়। দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে তিনিই প্রথম মেয়াদ পূরণ করে বিদায় নেন।
গোলাম রহমানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দুদক কমিশনার মো. বদিউজ্জামান। তিনি অবসরে গেলে নিয়োগ পান অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব ইকবাল মাহমুদ।
এক যুগের দীর্ঘ এ পথ চলায় দুদক আইনে সংশোধনী আনা হয় দুই বার। ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন (সংশোধনী)-২০১৩’ এবং ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০১৬’।
এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বিশেষ ক্রোড়পত্রে বাণী দিয়েছেন। এ ছাড়া কমিশনের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বিটিআরসির মাধ্যমে ‘দেশপ্রেমে শপথ নিন, দুর্নীতিকে বিদায় দিন’ শীর্ষক ক্ষুদে বার্তা মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ কমিশনের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা ও কমিশনের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির সূচনা করবেন।
পরে তিনি সকাল ৯টা ৪৫মিনিটে প্রধান কার্যালয়ের সামনে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দিবসটি উদ্বোধন করবেন।
সকাল ১০টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।
আলোচনা সভায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।
সভায় কমিশনের ছয়টি অনুবিভাগের মহাপরিচালকরা তাদের বাৎসরিক বাস্তবায়িত কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন। সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় এবং ২২টি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পতাকা ও কমিশনের পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, শপথগ্রহণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে।
এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় সোমবার বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে কমিশন।

