ঢাকাFriday , 18 November 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কমছে না নারীর প্রতি সহিসংতা

Link Copied!

rapeনিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও সামগ্রিক বিবেচনায় ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি।
পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে ধর্ষণ এবং শিশুদের যৌন নির্যাতন খুব একটা কমেনি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যখন সামাজিক বা রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকে তখন নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন বেড়ে যায়, বিশেষ করে ধর্ষণ। পাশাপাশি পারিবারিক অনুশাসনের জায়গায় ঘাটতি, বিচারে দীর্ঘসূত্রতা ও আইনের প্রয়োগ না থাকায় নারী ও শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এই সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তাই, এই ঘৃণ্য কাজ বেড়েই চলেছে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৩১৮ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১০৫ জন নারী, ১২০ জন শিশু, গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬৬ জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৭ জনকে। ২০১৫ সালে এ ধরনের ঘটনা ঘটে ৪২৬টি এবং ২০১৪ সালে ৪০২টি।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এক হাজার ২৪৮ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে নারী এক হাজার ৯৭ জন ও শিশু ১৫১ জন। তবে ডিএমপির হিসেবে আগস্ট মাসের নারী ও শিশু নির্যাতনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ধরনের অপরাধ বাড়ার মূল পাঁচটি কারণ চিহ্নিত করেছেন অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান। তার মতে সামাজিক অস্থিরতা, পারিবারিক অনুশাসনের জায়গায় ঘাটতি, সামাজিক অবক্ষয়, বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তি না হওয়া এবং আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে নারীর ওপর নির্যাতন বা নির্যাতনের পর হত্যার মাত্রা বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘নারী, শিশু ধর্ষণ বা ধর্ষণের পর হত্যার কারণ হিসেবে সামাজিক অস্থিরতা পারিবারিক অনুশাসনের জায়গায় ঘাততি এবং সামাজিক অবক্ষয়ের কথা আসে। তবে একই সঙ্গে সঠিক বিচার না হওয়া, বিচারে দীর্ঘসূত্রতা বা কম মাত্রায় শাস্তি হওয়াও এর অন্যতম একটি কারণ।’
‘আামাদের দেশে বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘ জট সৃষ্টি হয়েছে। আদালতগুলোতে প্রায় ২৮ লাখ মামলা পেন্ডিং রয়েছে। এ জন্য ন্যায় বিচারের জায়গাটা রুদ্ধ হয়ে গেছে’ বলেন এই অপরাধ বিশ্লেষক।
তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের মাত্রা বাড়ার আরো একটি কারণ হলো আকাশ সংস্কৃতি। এখন হাত বাড়ালেই ইন্টারনেটে পর্নো ভিডিও পাওয়া যায়। তা ছাড়া, ব্যক্তিগত অন্তরঙ্গ মুহূর্ত অনেকে ভিডিও করে অনলাইনে ছড়িয়ে দিচ্ছে। যা দেখে অন্যরা প্রভাবিত হচ্ছে।’
এদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও আস্থা না থাকায় ধারাবাহিকভাবে দেশে ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, গণধর্ষণ ও শিশু ধর্ষণের মাত্রা বাড়ছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার চেয়ারম্যান আইনজীবী সিগমা হুদা।
তিনি বলেন, এর কারণ সামাজিক অবক্ষয়। এ ছাড়া, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমে যাওয়াও অন্যতম কারণ।’
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশু ধর্ষণের একটি অন্যতম কারণ পেডফিলিয়া নামের মানসিক রোগ। তবে এই রোগের কারণেই যে সব শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, তা তারা বলছেন না। কিছু পুরুষের ‍বিকৃত রুচি এক্ষেত্রে মুখ্য কারণ বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।
এদিকে উইকিপিডিয়া সূত্রে জানা যায়, সামাজিক অস্থিরতা থেকে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বা শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটলেও শিশু ধর্ষণের আরো একটি কারণ রয়েছে। সেটি হলো পেডফিলিয়া নামে মানসিক রোগ। যারা এই রোগে আক্রান্ত হন তাদের বলা হয় পেডফিলিক।
উইকিপিডিয়া অনুযায়ী, পেডফিলিকরা প্রাপ্ত বয়স্ক বা বৃদ্ধ হতে পারে। তাদের ছেলে বা মেয়ে শিশুদের প্রতি যৌন আগ্রহ থাকতে পারে। বিশেষ করে ১০ থেকে ১১ বছর বয়সি মেয়ে এবং ১১ থেকে ১২ বছর বয়সি ছেলেদের ওপর তাদের যৌন আগ্রহ থাকে। তবে সঠিকভাবে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে এই রোগ নিরাময় সম্ভব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন বলেন, ‘সমাজের চিত্র যেভাবে দিন দিন পাল্টাচ্ছে সেভাবে কিছু কিছু দিকে আমরা পিছিয়েও যাচ্ছি। এর জন্য সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে। শিশু ধর্ষণ হলো তার আলামত।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ মাদক বা যৌন উত্তেজক ওষুধ যখন গ্রহণ করে তখন তার মস্তিষ্ক বিগড়ে যায়। তখন সে উন্মাদ হয়ে যায়। তখন তার সামনে কে থাকল সেটা বুঝতে চায় না। সেটা শিশু না বৃদ্ধ এই বিষয়ে চিন্তা করে না। তখন তাদের যৌন চাহিদা মেটানোর কথা ভাবে।’
ধর্ষণের পর হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা ধর্ষণ করে তারা দেখা যায় অনেকাংশে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত বা সম্ভ্রান্ত পরিবারের ব্যক্তি। যদি এই বিষয় সমাজে ছড়িয়ে যায় তাহলে তার সম্মান কমে যেতে পারে। এ ভয়েও সাধারণত তারা ধর্ষণের পর ভিকটিমকে হত্যা করে। আর কিছু মানুষ আছে যারা মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলে। তাদের দ্বারা এই ঘৃণ্য কাজটি হয়।’
এর থেকে উত্তরণের জন্য নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগকে আরো সতর্ক হতে হবে বলে মনে করেন সিগমা হুদা।
অন্যদিকে পারিবারিক অনুশাসনের জায়গা আরো শক্তিশালী করা, সমাজিক অস্থিরতা কমিয়ে আনা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা দেওয়াসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঠিক কাজের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব বলে জানিয়েছেন সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান।