নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৭ বছর ধরে বিনা বিচারে কারাগারে থাকা রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শিপনকে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে শিপনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে ঢাকার পরিবেশ আদালতের বিচারককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও জেবিএম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে শিপনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কুমার দেবুল দে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম জহিরুল হক।
এর আগে গত ৩০ অক্টোবর একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে শিপনকে নিয়ে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কুমার দেবুল দে।
গণমাধ্যমের ওই প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর ৩০ অক্টোবর শিপনকে ৮ নভেম্বর হাজির করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই অনুসারে তাকে মঙ্গলবার হাজির করা হয়।
পরে কুমার দেবুল দে সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের আদেশে বলেছেন- ৬০ দিনের মধ্যে এ মামলার বিচার শেষ করতে হবে। সেই পর্যন্ত শিপন জামিনে থাকবেন। যদি বিচার শেষ করতে পারে তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর শিপনের কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পুর্নবাসনের জন্য একটি আবেদন করতে বলা হয়েছে।
হাইকোর্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের দুই মহল্লার মধ্যে মারামারিতে একজন খুন হন। এ ঘটনায় মো. জাবেদ বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় দুই নম্বর আসামি মো. শিপন। এফআইআরে তার বাবার নাম ছিলো অজ্ঞাত। পরে চার্জশিটের সময় তার বাবার নাম মো. রফিক দেওয়া হয়। ঠিকানা ৫৯, গোয়ালঘটা লেন, সূত্রাপুর বলে উল্লেখ করা হয়। গ্রপ্তারের পর থেকে শিপন কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ তে ছিলেন।

