নিজস্ব প্রতিবেদক : মূলধন পূনর্গঠনের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে। এর মধ্যে ২৫০ কোটি টাকা দেবে সরকার, বাকি ৫০ কোটি টাকা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড যোগান দেবে। এই বরাদ্দ মঞ্জুরির জন্য সম্প্রতি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ অর্থবিভাগে চিঠি দিয়েছে।
নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার ২০১০ সালে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক আইন করে। আইন অনুযায়ী, বিদেশে যাওয়া এবং বিদেশ থেকে ফিরে এসে দেশে আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অর্থায়ন করাই ব্যাংকটির মূল কাজ। ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল ব্যাংকটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে সারা দেশে ব্যাংকটির ৪৯টি শাখা রয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মূলধন পুণর্গঠনের জন্য অর্থ বরাদ্দের ব্যাপারে গত ১ আগস্ট অর্থ বিভাগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, অর্থবিভাগ, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, জনতা ব্যাংক লিমিটেড, অগ্রণী ব্যাংক এবং সোনালী ব্যাংকের প্রতিনিধি সমন্বয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক আইন, ২০১০ এর ধারা ৮(১) এ প্রারম্ভিক শব্দটি উল্লেখ থাকায় ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন বাড়নোর ক্ষেত্রে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও সরকারের প্রদেয় মূলধনের অনুপাত (যথাক্রমে ৯৫ শতাংশ এবং ৫ শতাংশ) হুবহু রক্ষা করা বাধ্যতামূলক নয়। সুতরাং ২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুসারে ২৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগকে এবং ৫০ কোটি টাকা ওয়েজ অর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কর্তৃক পরিশোধ করার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানোর সুপারিশ করা হয়।
উল্লেখ্য, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনগত বাধাগুলো চিহ্নিত ও পরিশোধিত মূলধন সরবরাহের উপর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সুপারিশ ছিল যে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত আরও ৩০০ কোটি টাকা আবশ্যক হবে, যার মধ্যে ২৫০ কোটি টাকা সরকার এবং ৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল কর্তৃক সরবরাহ করা যেতে পারে।
সূত্র জানায়, এ অবস্থায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে গত ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মূলধন পূণর্গঠনের জন্য সরকারি অংশের ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ জন্য অর্থবিভাগের সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিশেষায়িত ব্যাংক থেকে তফসিলি ব্যাংকে রূপান্তরের অংশ হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা থেকে ২০১৩ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। গত ১ আগস্ট পরিশোধিত মূলধন উন্নীত করে গেজেট জারি করেছে সরকার।
তফসিলি ব্যাংকে রূপান্তরের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকা করার জন্য আবেদন করেছিল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাছে।

