নিজস্ব প্রতিবেদক : নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলার জন্য পুলিশের ওপর নির্ভর করার বিকল্প নেই। কিন্তু বাহিনীটির কিছু সদস্যের আচরণের কারণে তাদের প্রতি জনগণের মনোভাব যে খুব একটা ইতিবাচক, তা নয়। বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপে বের হয়ে এসেছে এই তথ্য। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশকেও। এ জন্য এই বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে বাহিনীটির নানা উদ্যোগও দৃশ্যমান। তবে এর সুফল মিলতে সময় লাগবে- বলছেন বাহিনীটির কর্মকর্তারাই।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে গত কয়েক মাস ধরেই নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পুলিশের সেবায় জনগণ সন্তুষ্ট কি না, তাদের কোনো অভিযোগ আছে কি না, সে জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি জানাতে ফোন নম্বরও দিয়েছে পুলিশ।
কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর প্রচার
গত ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ডিএমপির রমনা মডেল থানায় উদ্ধোধন করেছিলেন সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজম্যান্ট সিসটেম (সিআইএমএস)। ওই সময় কাক্সিক্ষত সেবা না পেয়ে থাকলে আঞ্চলিক সহকারী কমিশনার (এসসি), অতিরিক্ত কমিশনার (এডিসি) এবং উপ-কমিশনারের (ডিসি) কাছে সরাসরি অভিযোগ করতে তাদের মোবাইল ফোন নম্বর দেয় পুলিশ।
জানতে চাইলে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হাসান সরদার বলেন, ‘আমি রমনা বিভাগে যোগদানের পরে বিভিন্ন এলাকায় সাইনবোর্ডে, ব্যানারে বিভিন্ন কর্মকর্তানের পদবি ও মোবাইল নম্বর দিয়েছিলাম। কিন্তু থানায় এসে সেবা পাননি এমন অভিযোগ কেউই করেনি আমার কাছে।’
উঠান বৈঠক
জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ‘উঠান বৈঠক’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ। চলতি বছরের প্রথম দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিএমপির ৪৯ থানায়। প্রত্যেকটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে বিট পুলিশের উদ্যোগে এসব বৈঠক হচ্ছে। এতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, চিকিৎসক, বাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিচ্ছে। তারা এলাকাভিত্তিক মাদকদ্রব্য, ইভটিজিং সমস্যা, বখাটেদের আড্ডা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতির আশঙ্কাসহ বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরছেন। পুলিশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যাগুলি সমাধান করছে।
জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘জনসাধারণের সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততা বাড়াতে এই কর্মসুচি হাতে নেয়া হয়েছে। ২০১৬ সাল হবে পুলিশ-জনসাধারণের মধ্যে মেলবন্ধনের বছর। জনগণের আকাঙ্খা পূরণের বছর। পুলিশ যে জনগণের সত্যিকার বন্ধু, সেই বিশ্বাস স্থাপনের বছর।’
জানতে চাইলে সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস ফকির বলেন, ‘পুরো ঢাকায় নিয়মিত উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ অংশ নেন। এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এতে জনগণের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিবিঢ় হচ্ছে।’
ডিএমপি কমিশনারের ফেইসবুক লাইভ
ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে সবশেষ যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেটি হলো কমিশনারের ফেইসবুক লাইভ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত সোয়া আটটা পর্যন্ত জনগণের কথা ও মতামত শুনেন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
প্রায় পৌনে এক ঘন্টার এই অনুষ্ঠানে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ অংশ নেন। গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার পরে জনমনে আতঙ্ক কাটাতে পুলিশের উদ্যোগ, যৌন হয়রানি, নারী নির্যাতন, থানায় জিডি করতে গিয়ে পুলিশের আচারণ সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার সহকারী কমিশনার এএসএম হাফিজুর রহমান রিয়েল বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক রাখতে বিট পুলিশিং, সিআইএমএস, উঠান বৈঠক ও সব শেষে ফেইসবুকে কমিশনার সহ বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে পুলিশের। আমরা আশা করি এসব উদ্যোগে আমরা জনগণের আরও কাছাকাছি আসতে পারবো।’

