অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে লাইসেন্স ফিরে পেয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স।
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইডিআরএ) কোম্পানিটিকে নতুন করে লাইসেন্স ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।
এর আগে কোম্পানিটির আবেদনের ভিত্তিতে গত মাসে অর্থ মন্ত্রণালয় কোম্পানিটির লাইসেন্স পুনর্বহাল করে। অনিয়মের অভিযোগে গত বছরের ১৫ নভেম্বর আইডিআরএ কোম্পানিটির লাইসেন্স বাতিল করে। এরপর সরকারের কাছে লাইসেন্স ফিরে পেতে আবেদন জানায় স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কোম্পানিটির লাইসেন্স পুনরায় প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। বুধবার আইডিআরএ চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেয় এ কোম্পানির লাইসেন্স ফিরিয়ে দেওয়ার।
পুন:বিমা সংক্রান্ত ব্যাপক অনিয়মের কারণে গত বছরের ২১ জুন থেকে তিন মাসের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের লাইসেন্স স্থগিত করে আইডিআরএ। পরে কোম্পানি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আইডিআরএর নির্দেশনা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন আদালত। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যায় আইডিআরএ। পরে চেম্বার বিচারপতি শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। আর বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।
গত ৩০ জুলাই পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল রেখে আইডিআরএর সিদ্ধান্তকে বৈধতা দেন আপিল বিভাগ।
এদিকে, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের লাইসেন্স বাতিল হলেও যথারীতি লেনদেন চালু রয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির। তবে প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি। তাই ডিভিডেন্ডের ঘোষণাও আসেনি। যদিও কোম্পানিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে হিসাব জমা দেওয়ার সময় বাড়িয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স। ২৯ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ৯৫ লাখ ৭২ হাজার ১৫৭। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৫২.৪০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৭.৫৭ শতাংশ শেয়ার। অবশিষ্ট ১০.০৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে।
এদিকে লাইসেন্স ফিরে পাওয়ার খবরে আজ কোম্পানিটির শেয়ার দর ৯.৬৩ শতাংশ বা ১.৫ টাকা বেড়ে ১৭.১০ টাকা হয়েছে।

